শুরু হল শিল্প ও বাণিজ্য মেলা, নোট বাতিলের জন্য বিকিকিনি কমার আশঙ্কা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ জানুয়ারি৷৷ হাঁপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে আজ থেকে তেরদিন ব্যাপী ২৭তম

রবিবার হাপানিয়ায় আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গনে তের দিনব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন হয়েছে ৷ ছবি নিজস্ব৷
রবিবার হাপানিয়ায় আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গনে তের দিনব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলা উদ্বোধন হয়েছে ৷ ছবি নিজস্ব৷

ত্রিপুরা শিল্প ও বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে৷ দেশে নোট বাতিলের প্রভাবে এই মেলায় বিকিকিনি কতটা হবে এনিয়ে রয়েছে সংশয়৷ এমনটাই উঠে এল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বক্তার ভাষণে৷ তারপরও এই মেলার প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বক্তারা একমত প্রকাশ করেছেন৷
সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী প্রদীপ জ্বালিয়ে এই মেলার উদ্বোধন করেন৷ অনুষ্ঠানে সভাপিতত্ব করেন শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তপন চক্রবর্তী৷ এবারেরর মেলার থিম হচ্ছে, স্থানীয় সম্পদের মূল্য যুক্ত করা৷
উদ্বোধকের ভাষণে সাংসদ জীতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে৷ আমাদের রাজ্যেও পর্যাপ্ত পরিমানে রয়েছে গ্যাস, রাবার, কাঠ, বিভিন্ন ফল, সব্জী ও মানব সম্পদ৷ কিন্তু ও সম্পদের সদসব্যবহার করা যাচ্ছে না৷ এ জন্য প্রয়োজন কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি মালার পরিবর্তন৷ সেই সাথে কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্ত নর্থ-ইষ্টার্ণ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এমপ্লয়মেন্ট পলিসি পুনরায় চালু করার জন্য তিনি আহ্বান জানান৷ তিনি বলেন, আমাদের রাজ্যে শিল্প সম্ভাবনা আছে৷ অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্প রয়েছে৷ কিন্তু রাষ্ট্রের উদ্যোগ সেভাবে না হলে তা সম্ভব নয়৷ শিল্প ও বাণিজ্য আজ সারা পৃথিবী ব্যাপী চলচে মন্দা৷ তাই লুক ইষ্ট হউক কিংবা অ্যাক্ট ইষ্ট হউক উত্তর পূর্বাঞ্চেেলর সার্বিক উন্নয়নে কেন্দ্রকে সদর্থক ভূমিকা নিতে হবে৷
সভাপতির ভাষণে শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী তপন চক্রবর্তী বলেন, আমাদের রাজ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প গড়ে উঠার আশা আছে৷ কিন্তু প্রতিবন্ধকতাও আছে৷ এ জন্য চাই পণ্য উৎপাদনে গুণগতমান বজায় রাখা৷ মূলধন বাড়ানো৷ তিনি বলেন, রাজ্য সরকার শিল্প ও বাণিজ্য প্রসারে আগ্রহী৷ ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে এখন পর্যন্ত আখাউড়া এবং শ্রীমন্তপুরে দুটি ল্যান্ড কাষ্টমস স্টেশন চালু করা হয়েছে৷ ইতিমধ্যে মনুঘাটে আরও একটি স্থল বন্দরের শিলান্যাস করা হয়েছে৷ সাব্রুম, কমলপুর, বিলোনীয়াতে, খোয়াই ও ধর্মনগরে আরো ৫টি ল্যান্ড কাষ্টমস স্টেশন নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিদ্বয় সাংসদ শংকর প্রসাদ দত্ত এবং ঋর্ণা দাস বৈদ্য বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মেলা রাজ্য, বহিঃরাজ্য ও প্রতিবশী রাষ্ট্র বাংলাদেশের শিল্প উদ্যোগীদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক স্থাপন করবে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন৷ এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিধায়ক রাজকুমার চৌধুরী, আগরতলাস্থিত বাংলাদেশ ভিসা অফিসের সহকারী হাইকমিশনার মহঃ শেখাউয়াত হোসেন, শিল্প ও বাণিজ্য দপ্তরের প্রধান সচিব এম নাগারাজু প্রমুখ৷ স্বাগত ভাষণ দেন দপ্তরের বিশেষ সচিব অধিকর্তা ভি জে জেনার৷
অনুষ্ঠানে সুর ঝর্ণার শিল্পীরা উদ্বোধনী সঙ্গীত পরিবেশন করেন৷ মেলা চলাকালীন প্রতিদিন সন্ধ্যায় থাকবে সাংসৃকতিক অনুষ্ঠান৷ এবারের মেলায় ১৩৩টি স্টল খোলা হয়েছে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *