নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৯ জানুয়ারি৷৷ জ্ঞানশূন্যতা ডায়াবেটিস রোগকে মারণব্যাধিতে পরিণত করার অন্যতম মুখ্য

কারণ৷ রবিবার আগরতলায় অল ত্রিপুরা ডায়াবেটিক ফোরামের ১৯তম বার্ষিক সম্মেলনে ডায়াবেটিস রোগ নিয়ে মানুষের অজ্ঞতাই মূল আলোচ্য বিষয় ছিল৷ এদিন, প্রত্যেক বক্তাই ডায়াবেটিসের ভয়াবহতা সম্পর্কে উল্লেখ করার পাশাপাশি মানুষের এই রোগ সম্পর্কে জ্ঞানশূন্যতা এই রোগটিকে ভয়াবহ রূপ দিচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন৷ উদ্বেগের আরো কারণ হল, এখন শিশুরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে৷ এক পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ত্রিপুরায় মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ ডায়াবেটিস রোগে আক্রান্ত৷ ২০১৪ সালে ভারতের ১০ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে ডায়াবেটিস জনিত রোগের কারণে৷ সারা বিশ্বে বর্তমানে ৩৯ কোটি ডায়াবেটিস রোগী রয়েছেন৷ আশঙ্কা করা হচ্ছে, ২০৩৫ সালনাগাদ ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে ৬০ কোটি৷ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত৷ যে গতিতে ডায়াবেটিস রোগ ক্রমাগত ছড়াচ্ছে তাতে ২০৩৫ সাল নাগাদ আমাদের দেশে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ১৬ কোটিতে পৌঁছাবে৷
এদিন তিনি বলেন, ডায়াবেটিস রোগ নিয়ন্ত্রণে মানুষের জীবনশৈলী পরিবর্তন ভীষণভাবে প্রয়োজনীয়৷ এই রোগের হাত থেকে রেহাই পেতে কিংবা রক্ষা পাওয়ার জন্য মানুষকে তাদের জীবনশৈলী পাল্টাতে হবে৷ বিশেষ করে নতুন প্রজন্মকে সবচেয়ে বেশি সতর্ক এবং সচেতন করা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন৷ এই রোগের হাত থেকে রেহাই পেতে যোগাভ্যাস এর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন৷ তিনি জানান, আমাদের রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার পরিসর বৃদ্ধি পেলেও আধুনিক চিকিৎসা শৈলী এখনো পর্যাপ্ত হারে ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি৷ তবে, রাজ্য সরকার ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরো আধুনিকভাবে গড়ে তোলার জন্য৷ যেহেতু রাজ্যের ৯৫ শতাংশ মানুষ সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার উপর নির্ভরশীল তাই ডায়াবেটিস সচেতনতা বাড়াতে চিকিৎসকদেরও আরো দায়িত্ব নিতে বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী৷ তাঁর বক্তব্য, রোগীদের সাথে সরাসরি যোগাযোগ একমাত্র চিকিৎসকদেরই হয়৷ ফলে, ডায়াবেটিস সম্পর্কে সচেতন করার ক্ষেত্রে চিকিৎসকদেরই গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে ৷ প্রত্যেক মানুষের কাছে ডায়াবেটিস রোগ সম্পর্কে বার্তা পৌঁছাতে হবে৷ তবেই, এই রোগের হাত থেকে রাজ্যবাসীকে বাঁচানো সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন৷
এদিন, এই অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ বিকাশ রায়কে ফোরামের তরফে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে৷ এছাড়াও বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষ্যে আয়োজিত বসে আঁকো প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যেও পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে৷ ডাঃ রূপেন্দ্র ভৌমিক এদিন এই সম্মেলনের মঞ্চে যোগা প্রদর্শন করেছেন৷