আবাস যোজনায় অনিয়ম নিয়ে মেয়রের স্পষ্টিকরণ, কেন্দ্রীয় সচিবের মতে কারচুপির কোনও রাস্তা নেই

PMAYনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২১ জানুয়ারী৷৷ প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর বন্টনে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগরতলা পুর নিগমের মেয়র ডঃ প্রফুল্লজিৎ সিন্হা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর বন্টনে জিওট্যাগিং বাধ্যতামূলক৷ এমন কি আধার সংযুক্ত না থাকলে কোন সুবিধাভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে না৷ একই কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগর গরীবি হ্রাসকরণ মন্ত্রকের সচিব নন্দীতা চ্যাটার্জীও৷ ফলে, শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন আর্থ সামাজিক জাতি জনগণনা ভিত্তিহীন দাবি করে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর বন্টনে অনিয়মের যে অভিযোগ তুলেছিলেন তার যৌক্তিকতা নিয়েই প্রশ্ণ উঠেছে৷

এদিন, রাজ্যে এসে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা শীর্ষক একটি কর্মশালায় অংশ নেন কেন্দ্রীয় আবাসন এবং নগর গরিবী হ্রাসকরণ মন্ত্রকের সচিব নন্দিতা চ্যাটার্জি৷ কর্মশালা শেষে তিনি রাণীরবাজারে প্রকল্পের সাইট পরিদর্শন করেন৷ এরপর তিনি বিবেকানন্দ আবাসনে ঘুরে যান৷ এই প্রকল্পের বিষয়ে তিনি জানান, জিও ট্যাগিং ছাড়া কোন সুবিধাভোগীর জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হবে না৷ শুধু তাই নয়, আধার সংযুক্ত সুবিধাভোগীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠাবে কেন্দ্র৷ এদিন তিনি আরো জানান, ৫টি ধাপে অর্থ পাঠানো হবে৷ প্রতি ক্ষেত্রেই কাজ সমাপ্ত হয়েছে জানানোর পরই অর্থ পাঠানো হবে৷ কোন সুবিধাভোগী জিও ট্যাগিং না হলে তাকে বাদ দিয়ে দেওয়া হবে৷ তিনি দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় কারচুপি করার কোন রাস্তা নেই৷ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীর হাতে সুযোগ পৌঁছে দিতে সমস্ত রকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে৷

এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে পুর নিগমের মেয়র ডা প্রফুল্লজিৎ সিনহা একইভাবে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় কারচুপি করার কোন রাস্তা নেই৷ যদি কোন সুবিধাভোগী ভুলবশত তালিকা ভুক্ত হয়ে থাকেন তাহলে তাকে বাদ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে৷ এদিন তিনি জানান, প্রত্যেক সুবিধাভোগীর তালিকা ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে৷ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে নাম পাঠানো হলে তারা প্রযুক্তির সহায়তায় দেখে নেবে সুবিধাভোগী বাছাইয়ের কোন রকম গলদ রয়েছে কিনা৷ ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে ঐ তালিকা থেকে সুবিধাভোগীর নাম বাদ দিয়ে দেবে কেন্দ্র৷ তখন নতুনভাবে সুবিধাভোগী চিহ্ণিত করে কেন্দ্রের কাছে নাম পাঠাতে হবে৷ শুধু তাই নয়, জিও ট্যাগিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার জন্য৷ প্রত্যেক সুবিধাভোগীর জিও ট্যাগিং করে ওয়েবসাইটে আপলোড করতে হবে৷ এদিন তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় কোন সুবিধাভোগী যদি এই প্রকল্পের আওতাভুক্ত না হন তাহলে তাকে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও বাদ দেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে৷ বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণের অভিযোগ প্রসঙ্গে পুর নিগমের মেয়র দাবি করে বলেন, পুর এলাকায় সুবিধাভোগীদের তালিকা প্রত্যেক ওয়ার্ড অফিসে টাঙ্গানো হয়েছিল৷ এর ভিত্তিতে দাবি আপত্তি জানানোরও সুযোগ দেওয়া হয়েছিল৷ আগামী কিছুদিনের মধ্যে সুবিধাভোগীদের সমস্ত তালিকা ওয়েবসাইটে দেওয়া হবে৷ এর ভিত্তিতে কারোর বিষয়ে অভিযোগ উঠলে এর তদন্ত করা হবে৷ সুদীপবাবু যে অভিযোগ করেছেন তার তদন্ত করে দেখা হবে৷ সত্যতা মিললে ঐ সুবিধাভোগীকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে৷

এদিন পুর কমিশনার ডা. মিলিন্দ রামটেকে জানিয়েছেন, পুর এলাকায় ৪৯টি ওয়ার্ডের ১৭ হাজার ৩৬৮ জন সুবিধাভোগীর তালিকা তৈরি হয়েছে৷ আধার সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সহ তাদের তালিকা মন্ত্রকের কাছে পাঠানো হয়েছে৷ পরবর্তী ধাপে জিও ট্যাগিং করা হবে৷ এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ জন সুবিধাভোগীর জিও ট্যাগিং হয়েছে৷ তাদের অ্যাকাউন্টে প্রথম পর্যায়ের অর্থ ঢুকেছে৷ তিনি জানান, ধাপে ধাপে অর্থ মিলবে এই প্রকল্পে৷ মোট ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেবে কেন্দ্র৷ ১৬ হাজার টাকা দেবে রাজ্য সরকার৷ এই প্রকল্পে ঘর নির্মাণে বরাদ্দ ব্যয় ২লক্ষ ৭১ হাজার টাকার মধ্যে বাকি টাকা সুবিধাভোগীকে বহন করতে হবে৷ পুর নিগমের মেয়র এবং কমিশনার জোর গলায় দাবি করেন, এই প্রকল্পে কোন ধরনের কারচুপি হওয়ার পথ নেই৷ তবে, ভুলভ্রান্তি হতেই পারে৷ সে ভুল সংশোধন করারও রাস্তা রয়েছে এবং সেটা অবলম্বন করা হবে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *