শিক্ষার মানোন্নয়নে কেন্দ্রের নয়া নির্দেশিকা, শিক্ষকদের মূল্যায়ন করবে ছাত্রছাত্রীরা

educationনিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ জানুয়ারি৷৷ এখন থেকে শিক্ষক- শিক্ষিকাদেরও মূল্যায়ন হবে৷ দেশের শিক্ষার বেহাল অবস্থার কারণে কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রক সরকারি সুকলের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক করে দিয়েছে৷ তবে, সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হল এতদিন যাদের শিক্ষক-শিক্ষিকারা মূল্যায়ন করতেন, তারাই এখন থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মূল্যায়ন করবে৷ মন্ত্রকের নির্দেশিকা মোতাবেক পঞ্চম শ্রেণী তদুধর্ব পড়ুয়ারা তাদের শিক্ষক- শিক্ষিকাদের মূল্যায়ন করতে পারবে৷ এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফরমেট তৈরি করে দেওয়া হয়েছে৷ সূত্রের খবর, বিদ্যালয় শিক্ষা দপ্তরের কাছে এই নির্দেশিকা এসে পৌঁছেছে৷ তাতে বলা হয়েছে, সমস্ত সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মূল্যায়ন করবে ছাত্রছাত্রীরা৷
সূত্র অনুসারে জানা গেছে, শিক্ষা দপ্তর শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মূল্যায়নের নির্দিষ্ট ফরমেট তৈরি করে বিদ্যালয়গুলিতে পাঠাবে৷ ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা জানাবে৷ নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, শিক্ষক কতটা পড়াতে পারেন, তার মান কি পর্যায়ের, ছাত্রছাত্রীরা কতটা উপকৃত হচ্ছে এবং তারা কতটা শিক্ষিত হচ্ছে সে সমস্ত বিষয় নিয়ে ফরমেট তৈরি করতে হবে৷ শুধু তাই নয়, পঠনপাঠনের ধরন পাল্টানো প্রয়োজন কিনা এমন মতামতছাত্রছাত্রীরা জানাবে৷ সমস্ত কিছুই প্রশ্ণের আকারে ছাত্রছাত্রীদের কাছে তুলে ধরা হবে৷ এরই ভিত্তিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মূল্যায়ন করা হবে৷
কেন্দ্রের এই উদ্যোগের পেছনে অন্যতম কারণ হল, দেশে সরকারি সুকলগুলিতে শিক্ষার মান ক্রমাগত তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে৷ এরাজ্যেও সরকারি সুকলগুলির প্রতি অভিভাবকদের আস্থা অনেকটাই কম৷ রাজ্য বিধানসভা অধিবেশনে প্রশ্ণোত্তরে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বেসরকারি সুকলগুলিতে ছাত্রছাত্রীর ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে৷ সেই তুলনায় সরকারি সুকলগুলিতে সন্তানদের পাঠাতে চাইছেন না অভিভাবকরা৷ একই অবস্থা গোটা দেশের৷ দেশের সমস্ত রাজ্যেই বেসরকারি সুকল ক্রমাগত বেড়ে চলেছে৷ তার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ছাত্রছাত্রীর ভর্তির সংখ্যাও৷ সূত্রের খবর, এই মূল্যায়নের পেছনে অন্যতম মুখ্য লক্ষ্য সরকারি সুকলগুলিতে শিক্ষক শিক্ষিকাদের গুণগত মান বৃদ্ধি করা৷ কোন সরকারি সুকলের শিক্ষক-শিক্ষিকাকে এই মূল্যায়নের ভিত্তিতে ছাঁটাই করা সম্ভব নয়৷ কিন্তু মানব সম্পদ উন্নয়নমন্ত্রক চাইছে তাঁদের চাকুরিতে বহাল রেখে ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে মানোন্নয়ন আরো কিভাবে বাড়ানো যায়৷
সূত্রের খবর, মন্ত্রক রাজ্যগুলির কাছে জানতে চাইবে কোন কোন রাজ্য এই প্রক্রিয়া অবলম্বনে আগ্রহী৷ এর ভিত্তিতে রাজ্যগুলিতে এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে৷ তবে, এই প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রের প্রত্যক্ষ নজরদারির যথেষ্ট প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবক মহল৷ কারণ, অধিকাংশবিদ্যালয় ছাত্র সংগঠন এবং শিক্ষক সংগঠনের কব্জায় রয়েছে৷ সেক্ষেত্রে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় কতটা স্বচ্ছতা অবলম্বন করা হবে সে প্রশ্ণ উঠেছে অভিভাবকদের মনে৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *