নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১১ জানুয়ারী৷৷ অগ্ণিদগ্দ গৃহবধূ শিল্পী দাস শেষ পর্যন্ত জীবন যুদ্ধে পরাজিত হল৷ বুধবার সকালে জি বি হাসপাতালে অগ্ণিদগ্দ গৃহবধূ শিল্পী দাসের৷ গুণধর স্বামী লিটন দাস পেশায় অটো চালক৷ প্রতিদিনই আকন্ঠ মদ্যপান করে মা এবং স্ত্রীকে মারধর করত৷ তাতে তীব্র আপত্তি জানালে স্ত্রীকেও প্রচন্ড মারধর করে৷ তাতে চরম অপমানিত বোধ করে গৃহবধূ শিল্পী দাস গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল৷ বুধবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন৷
প্রসঙ্গত, যৌতুকের জন্য নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল ঐ গৃহবধূ৷ অগ্ণিদগ্দ ঐ গৃহবধূ বর্তমানে জি বি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ তার নাম শিল্পী দাস৷ বাড়ি বিশালগড় থানার অধীন জাঙ্গালীয়া গ্রামে৷
সংবাদে প্রকাশ, শিল্পী দাসের উপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালায় তার স্বামী লিটন দাস৷ পেশায় মোটর শ্রমিক লিটন গত কিছুদিন যাবৎ নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়৷ শুক্রবার থেকে লাগাতর লিটন বাড়িতে হুলুস্থুল কান্ড ঘটিয়ে চলছে৷ টাকার জন্য শিল্পীকে চাপ দেয়, যাতে বাপের বাড়ি থেকে নিয়ে আসে টাকা৷ লিটনের মা পুত্রবধূর এই নির্যাতনকে সহ্য করতে পারছিলেন না৷ তিনিও ছেলেকে বারবার বারণ করছিল যাতে নির্যাতন বন্ধ করে দেয়৷ কিন্তু, অবাধ্য লিটন ক্রোধে ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র ভেঙ্গে ফলেতে থাকে একে একে৷ শুক্রবার স্ত্রী শিল্পীকে বাড়ি থেকে বেড় করে দেয় লিটন৷ পরে লিটনের মা রাস্তা থেকে কোনওরকমে বাড়িতে নিয়ে আসেন পুত্রবধূকে৷ শেষ পর্যন্ত শনিবার মধ্যরাতে ঐ গৃহবধূ বাড়িতেই গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়৷ তার আর্তনাদে শাশুড়ি আশেপাশের লোকজনকে ডেকে আনেন৷ গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিল্পী সাহাকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় বিশালগড় হাসপাতালে৷ সেখান থেকে তাকে জি বি হাসপাতালে রেফার করা হয়৷ এদিকে, লিটন দাসের বিরুদ্ধে বিশালগড় থানায় একটি মামলা করেছেন তার মা৷ পুলিশ মামলা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে৷ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করে আছে লিটন দাস৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে৷
2017-01-12