প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব কর্তব্য নিয়ে ক্ষুব্ধ উত্তর কলমচৌড়া গ্রামের অভিভাবকরা

education-2নিজস্ব প্রতিনিধি, বক্সনগর, ১১ জানুয়ারি৷৷ আমাদের ভারতবর্ষে প্রাচীনকালে শিক্ষাব্যবস্থা ছিল গুরুগৃহে৷ গুরুদেব যাহা আদেশ করিতেন, তাহা শিষ্যরা শিরোধায্য হিসাবে পালন করিতেন৷ তৎকালীন সময়ে শিষ্যদের আদর্শ,ন্যায়পরায়ণতার মাধ্যমে শিষ্টাচার ভাবে প্রকৃত সুশিক্ষার বিচারেই শিক্ষিত করে তুলতেন৷ আজকালের বিবর্তনে ওই গুরুগৃহের শিক্ষাই রূপ পরিবর্তন করে বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে৷ রাজ্য সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষার ক্ষেত্রে কোটি কোটি খরচ করে পাঠশালা নির্মাণ করেছেন, কিন্তু শিক্ষাদানের জন্য শিক্ষক, শিক্ষিকাও নিয়োগ করছেন৷ কিন্তু  সংখ্যক শিক্ষক শিক্ষাটাকে বাণিজ্যকরণ করে নিজের ফায়দা লুটার চেষ্টাও করেন৷ আবার একটা অংশের শিক্ষকের বিরুদ্ধে আপাদমস্তক দায়িত্ব ও কর্তব্যের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ণ উঠেছে৷ যেমন বক্সনগর আর ডি ব্লকের অধীনে উত্তর কলমচৌরা গাঁওসভার অন্তর্গত ছাতিয়ান টিলা উচ্চ বিদ্যালয়টি অবস্থিত সে সুকলের প্রধান শিক্ষক হচ্ছেন সিআরি দেববর্মা৷ তিনি নিজেই বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর শিক্ষাদীক্ষার ব্যাপারে ওয়াকিবহাল নন৷ তাহলে কিভাবে অন্যান্য শিক্ষকদের সঠিকপথে দিশারি দেখাবেন? যে সুকলের প্রধান শিক্ষক দায়দায়িত্ব ও কর্তব্যের প্রতি অবহেলা করেন উনার অধস্তন শিক্ষক ও শিক্ষিকা গুরু কৃপাহি কেবলম৷ বিদ্যালয় মহকুমা আধিকারিক বা জেলা অধিকর্তার নিকট হইতে কোন মিটিংয়ের চিঠি আসলে উনি নিজে অনুপস্থিত, অন্য শিক্ষকের ঘাড়ে দায় এড়িয়ে ছানা পুকুরে স্নান করে নিজে বাঁচেন৷ শুধু কি তাই, সময়ের  প্রতি নজর নেই৷ সুকলে যখন খুশি আসে আবার চলেও যান আর মোটা অঙ্কের মাইনে শুনে৷ আমাদের  গ্রামগঞ্জের কৃষক খেটে খাওয়া, দিনমজুর, দরিদ্র শ্রেণীর লোকের ছেলেমেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠান একটু লেখাপড়া করে মানুষ করার জন্য৷ তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে ছাতিয়ান টিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দায়িত্বজ্ঞানহীন আরেক শিক্ষক তিনি হলেন আব্দুল মমিন৷ ওনার ব্যবহারও ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ব্যবহার করেন অশালীন ভাবে৷ ২০১৬ সালের বার্ষিক পরীক্ষার খাতা দেখা নিয়েও তার বিরুদ্ধে ছাত্রছাত্রীরা অভিযোগ করেন বিদ্যালয়ের এস এম সি কমিটির নিকট৷ একই ছাত্রী অন্য শিক্ষকের খাতায় নম্বর খুবই কম৷ কিন্তু মমিন স্যারের খাতায় বেশি নম্বর এনিয়ে কানাগোসা চলছে৷ আর যে ছাত্র ছাত্রী ভাল নম্বর  পাওয়ার যোগ্য তাকে কম নম্বর দিয়েছে৷ প্রশ্ণ উঠেছে শিক্ষকের চরিত্র ও ব্যবহার নিয়ে৷ সোনামুড়া টাউন হলে প্রথম সপ্তাহে কিশোরী উৎকর্ষ মঞ্চের অনুষ্ঠান হয়৷ উক্ত অনুষ্ঠানে কিশোরীদের উৎকর্ষতা বিকাশের ক্ষেত্রে এর সহায়ক হবে৷ আর এই প্রোগ্রামের দায়িত্বে ছিলেন আব্দুল মমিন৷ রাষ্ট্রীয় মাধ্যমিক শিক্ষা অভিযান প্রকল্পে৷ সোনামুড়া মহকুমার প্রতিটি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা অংশগ্রহণ করেছেন৷ কিন্তু ছাতিয়ানটি উচ্চ বিদ্যালয়ের কিশোরীরা বঞ্চিত হলেন কেন? তার জন্য দায়ী কে? বিগত শিক্ষাবর্ষে  যেসকল ছাত্রছাত্রীরা  নবম ও দশম শ্রেণীর বার্ষিক পরীক্ষা ৫০ শতাংশ নম্বর বা তার বেশি পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিল তাদের নিয়েই অনুষ্ঠানটি হয়েছিল সেখানে মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের প্রশংসাপত্র পর্যন্ত দিয়াছেন শিক্ষাবিভাগের  আধিকারিকও মহকুমা প্রশাসন থেকে৷ শিক্ষকের চরম গাফিলতির খেসারত দিতে হল ছাত্রছাত্রীদের৷ আর তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত করে দিয়েছেন এই হল শিক্ষকের ভূমিকা৷  এই বিদ্যালয়ের আরেক ফাঁকিবাজ শিক্ষক হলেন পার্থ প্রতিম লস্কর বিদ্যালয়ের শ্রেণী কক্ষে পঠনপাঠনের তেমন গুরুত্ব দেননি বলে সংবাদ সূত্রে জানতে পারি ক্লাসে গল্প গুজব করে চলে আসেন তার একটা কারণ প্রাইভেট পড়েছেন তাদের খাতায় নম্বর বেশি৷ আর যারা পড়েনি তাদের খাতায় নম্বর কম৷ তিনি আরো বলেন, আমার কাছে প্রাইভেট পড়লেই ভাল নম্বর পাবি৷ টাকার লোভে সুকলে পড়াশুনা লাটে শিঁকিয়ে তুলেছেন৷ তাই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার  জন্য শিক্ষা দপ্তরের দৃষ্টি  আকর্ষণ করছে অভিভাবক মহল৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *