ইমফল (মণিপুর), ০৯ জানুয়ারি, (হি.স.) : মণিপুরের ক্ষমতাসীন ১৫ বছরের কংগ্রেসকে উৎখাত এবং বিজেপি যাতে কোনও অবস্থাতেই রাজপাটে বসতে না-পারে সে সংকল্প নিয়ে রাজ্যে আত্মপ্রকাশ করেছে তৃতীয় মোর্চা। সিপিআই, সিপিআই (এম), এনসিপি, আপ, জনতা দল (সংযুক্ত) এবং মণিপুর ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট-কে নিয়ে গঠিত নয়া তৃতীয় মোর্চার নাম লেফট ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (এলডিএফ)।
আনুষ্ঠানিকভাবে ছয় দলীয় এই মোর্চা গঠনের খবর দিয়ে সিপিআইয়ের রাজ্য সম্পাদক মৈরাংথেম নারা বলেছেন, তাঁদের সম্মিলত মোর্চাই রাজ্যে পরবর্তী সরকার গঠন করার চেষ্টা করবে। অন্য দুই আঞ্চলিক দল মণিপুর পিপলস পার্টি এবং মণিপুর স্টেট কংগ্রেস পার্টিও তাঁদের মোর্চায় যোগদান করবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন মৈরাংথেম।
প্রশ্ন উঠেছে, পনেরো বছরের পুরনো কংগ্রেস সরকারকে সত্যিই কি উৎখাত করতে পারবে বাম তৃতীয় মোর্চা? রোখা যাবে বিজেপির দ্রুত উত্থানকে? আগামী চার ও আট মার্চ অনুষ্ঠেয় ৬০ আসনের মণিপুর বিধানসভা নির্বাচনেও ফের ক্ষমতায় আসতে পোড়খাওয়া রাজনীতিক মুখ্যমন্ত্রী ওখরাম ইবোবি সিংকে কি বিজেপি কিংবা বাম মোর্চ ক্ষমতাচ্যুত করতে পারবে? কেননা এরই মধ্যে ইরম শর্মিলার পিপলস রিসাজেন্স অ্যা্ন্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স নামের নতুন রাজনৈতিক দলও ভোটের ময়দানে নেমেছে। ইরমের এক ইস্যু, মণিপুর থেকে বিশেষ সামরিক আইন প্রত্যাহার।
এর ওপর গত ১ নভেম্বর থেকে মণিপুরে চলমান আর্থিক অবরোধে রাজ্যে এক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, এই আন্দোলন কোনওভাবেই শিথিল হবে না। এরই মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কেননা, রাজ্যের নাগা অধ্যুষিত অঞ্চলকে নিয়ে চারটি নয়া জেলা গঠনের প্রতিবাদে ১৬টি নাগা সংগঠনের যৌথ মঞ্চ ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিলও ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের নির্ঘণ্ট বাজালেও তাঁদের অন্দোলন শিথিল করা হবে না। ইউএনসি সাধারণ সম্পাদক সিমরেই মিলান জানান, রাজ্যের প্রধান দুটি জাতীয় সড়কে চলমান আর্থিক অবরোধ প্রত্যাহৃত হবে না, বরং আরও তীব্র হবে।