নিজস্ব প্রতিনিধি, খোয়াই, ৮ জানুয়ারি৷৷ সারা রাজ্যজুড়ে এবার বিশেষভাবে পালিত হল পুলিশ সপ্তাহ৷ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রচার দিতে ব্যস্ততাও ছিল তুঙ্গে৷ কিন্তু বর্তমানে যারা বড় পোস্টে চাকুরি করছেন তারা বহাল তবিয়তে আছেন আর বেশিরভাগ সাধারণ পুলিশ কর্মীরাই নানানভাবে অপমানিত, লাঞ্ছিত৷ উনারা রৌদ্র বৃষ্টি সহ্য করে দিবারাত্রি পরিশ্রম করেন৷ কিন্তু তিরষ্কার ছাড়া আর কিছুই নেই ওনাদের কপালে৷ রাত্রি যাপন করা বা সাধারণ শৌচালয় পর্যন্ত নেই তাদের৷ অপরদিকে এসপিও কর্মীরা যারা রয়েছেন নূ্যনতম মজুরিতে কাজ করেন৷ অথচ তিনগুণ পরিশ্রম তারা করেন৷
খোয়াই শহরের প্রাণকেন্দ্র সুভাষপার্ক বাজার যে জায়গায় সেখানেই আউটপোস্টটি অবস্থিত৷ রামচন্দ্রঘাট, আশারামবাড়ি, খোয়াই এবং কল্যাণপুরের একটি অংশের জনগণ প্রায় প্রতিদিনই আসেন সুভাষপার্ক এলাকায়৷ এই সুভাষপার্ক আউটপোস্ট বা বর্তমানে নরক গুলজার৷ প্রায় ১৯৬০ সালে তৈরি করা ভবনটি যেখানে প্রথম ছিল পূর্ত দপ্তরের অফিস৷ তারপর সি আই অফিস৷ তারপর হয় সুভাষপার্ক আউটপোস্ট৷ সে ছোট্ট পরিসরে নিম্নমানের পাকা বাড়িতে ট্রাফিক দপ্তর সহ পুলিশ কর্মীরা থাকেন৷ অফিস পরিচালনা করেন৷ আজ পর্যন্ত কোন সারাই বা সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি৷ যিনি দায়িত্বে থাকেন উপরি পয়সা থেকে কোন রকম জোড়া তালি দিয়ে দিনরাত্রি কাটান৷ নেই ফ্যান, নেই বসার জায়গা৷ ছোট ছোট রুম৷ নেই মালখানা৷ যার ফলে খালি হাতে ডিউটি করতে হয়৷ অথচ সব থেকে বেশি ভিআইপি এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান সুভাষপার্ক আউটপোস্টের তত্ত্বাবধানে৷ মানুষের সব থেকে প্রয়োজন শৌচালয়৷ আউটপোস্টের নোংরা পুঁতিময় শৌচালয়টি যেভাবে দাঁড়িয়ে আছে যে কোন সময় বড়সর অঘটন ঘটে যেতে পারে সুভাষপার্ক আউট পোস্টের সাজানো যে গেইটটির ছবি দেখা যাচ্ছে সেটিও এক ঠিকেদারের দেওয়া দান৷ ভেতরে কঙ্কালসার অবস্থা নিয়ে চলছে সুভাষপার্ক আউটপোস্টটি৷ যত আউটপোস্ট আছে বাইজালবাড়ি, সোমবারিয়া বাজার সহ সব থানার চৌকিগুলির প্রায় একরকম দুরাবস্থাই৷ অথচ দিবারাত্রি পরিশ্রম করে এবং সরকারকে ট্যাক্স আদায় করে দিচ্ছে তারাই৷ তারপরও কোন প্রকার নজর নেই৷ দিন হউক বা রাত উনারা পরিশ্রম করে সময় মতো কিছুই পান না৷ মদ, জুয়া, হেন্ডিং, কোরাক্স, ট্যাবলেট, গাড়ি, কাঠ, ভাঙা জিনিসের দোকান, নকল মদ তৈরির কারখানা সহ গাড়ির থেকে যে টাকা আমদানি হয় সব বড় কর্তারা ভাগ করে নেন৷ অল্প কিছু মেজর পর্যন্ত পায়৷ বাকিরা খালি হাত৷ যার ফলে এসব দেখে উনারা আজ আর আগের মতো মনযোগ দিয়ে কাজ করেন না৷ আজ পুলিশ সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে৷ যা শুধু প্রচার পাবার জন্য৷ আসল পুলিশ সপ্তাহ পালন সেদিনই হবে যেদিন আসল পুলিশ কর্মীরা তাদের মর্যাদা পাবে৷ সেদিন সফল হবে পুলিশ সপ্তাহ উদযাপন৷ হাতেগুনা কয়েকজন চেয়ারে বসে পুলিশ কর্মীর মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাবে আর পুলিশ কর্মীরা তা বসে বসে দেখবে৷ যার ফলে দিনে দিনে পুলিশ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ধূমায়িত হচ্ছে৷ এখনো সময় আছে সঠিক মূল্যায়ন করার৷ মৌলিক সুবিধাগুলি দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ পালন হবে সঠিক৷
2017-01-09