News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • কেন্দ্রীয় সরকার কৌশলে এম জি এন রেগা বাতিল করে দিতে চাইছে ঃ মুখ্যমন্ত্রী
Image

কেন্দ্রীয় সরকার কৌশলে এম জি এন রেগা বাতিল করে দিতে চাইছে ঃ মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ ডিসেম্বর৷৷ গ্রামের শ্রমজীবী মানুষদের কর্মসংস্থানের একটা নিশ্চয়তা দিতেই কেন্দ্রের প্রথম ইউ পি এ সরকারের সময় এম জি এন রেগা চালু হয়৷ দেশের বামপন্থী সরকারগুলীর ও বামফ্রন্টের চাপেই এম জি এন রেগা সংসদে একটি আইন হিসেবে গৃহীত হয়েছিল৷ এর লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ ভারতের শ্রমজীবী গরীব মানুষের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি, শিল্পয়ানের সুযোগকে সম্প্রসারিত করা এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করা৷ আজ বিধানসভায় একটি বেসরকারি প্রস্তাবের সমর্থনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার একথা বলেন৷ আজ বিধানসভায় দ্বিতীয় বেলার অধিবেশনে বিধায়ক পদ্মকুমার দেববর্মা এই বেসরকারি প্রস্তাবটি আনেন৷ প্রস্তাবটি ছিল নিম্নরূপ ঃ মহাত্মা গান্ধী গ্রামীণ নিশ্চিত কর্মসংস্থান প্রকল্পে বছরে অন্তত দুইশত দিন কর্মলাভের সুযোগ নিশ্চিত করতে, এই প্রকল্পে মজুরি প্রদান পদ্ধতি সরল ও দ্রুত করতে এবং অনুরূপ প্রকল্পের আদলে অবিলম্বে শহরেও নিশ্চিত কর্মসংস্থান প্রকল্প চালু করতে ত্রিপুরা বিধানসভা ভারত সরকার তথা বিশেষভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী মহোয়দকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ করছে৷
মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এই বেসরকারি প্রস্তাবকে সমর্থন করে বলেন, প্রস্তাবটি খুবই প্রাসঙ্গিক৷ শুধু ত্রিপুরার জন্যই নয় সমগ্র দেশের গরীব মানুষের জন্যই এই প্রস্তাব প্রাসঙ্গিক ও যুক্তিপূর্ণ৷ তিনি বলেন, দেশের ৭০ ভাগ মানুষ গ্রামে বসবাস করেন৷ এবং অধিকাংশই গরীব৷ তাদেরকে রক্ষা করতে এই আইন চালু রাখাই নয় দুইশ দিনের কাজের নিশ্চয়তাও দেওয়া উচিৎ৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের প্রথম ইউ পি এ সরকারও শ্রেণীগত স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে গ্রাম ভারতের শ্রমজীবী মানুষদের জন্য কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিতে এই আইন চালু করতে কুন্ঠাবোধ করছিলেন৷ কিন্তু সেই সময় দেশের বামপন্থী সরকারগুলি ও বামপন্থী দলগুলির চাপ ছিল এই কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তাকে আইনীরূপ দিতে হবে৷ অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেই সময় কেন্দ্রীয় সরকার এই আইন রূপায়ন করে৷ কিন্তু আইন হলেও কেন্দ্রীয় সরকার প্রথম থেকেই এই কর্মসূচী রূপায়নে সারা দেশে যা বরাদ্দ প্রয়োজন তা করেনি৷ মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, ১০০ দিনের জন্য গড় মজুরি ১৫০ টাকা ধরে সারা দেশে ৫ কোটি গ্রামীণ শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা ধরলে প্রয়োজন হ য় ৬৪ হাজার কোটি টাক৷ কিন্তু ইউ পি এ সরকার প্রথম বছর থেকেই তা বরাদ্দ করেনি৷ পরবর্তী সময়ে প্রতিবছর বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে৷
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন এন ডি এ সরকার এই কর্মসুচী বাতিল করার লক্ষ্যে সারা দেশে ২০০ টি বাছাই করা জেলাকে চিহ্ণিত করে৷ আমরা এর প্রতিবাদ করে ছিলাম ৷ আমরা বলেছিলাম অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হবে৷ আমরা যে দাবি জানিয়েছিলাম দেশের অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকেও এই দাবী জানানো হয়৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সরকার এখন কৌশলে এম জি এন রেগা কর্মসূচীকে বাতিল করে দিতে চাইছে৷ তাই তারা নতুন নতুন পদ্ধতি চালু করে এই আইনকে পঙ্গু করে দিতে চায়৷ এর বিরুদ্ধে শুধু প্রস্তাব নিলেই চলবে না৷ দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে৷ লড়াই করতে হবে৷ মুখ্যমন্ত্রী ব লেন, ইউ পি এ সরকার বা এন ডি এ সরকার যারাই দেশের শাসন ক্ষমতায় আসছে তাদেদর শ্রেণীগত দৃষ্টিভঙ্গির কোন পার্থক্য নেই৷ এরা গরীবের শুক্রু৷ ধনীদের স্বার্থের রক্ষক৷ তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সরকারের আসল লক্ষ্যই হচ্ছে একচেটিয়া পুঁজি, কালোবাজীরা ও জোতদারদের স্বার্থ রক্ষা করা৷ এম জি এন রেগা আইন চালু থাকায় এক চেটিয়া পুঁজি ও জোতাদাররা গ্রাম ভারতের শ্রমজীবী মানুষদের কম মজুরিতে ব্যবহার করতে পারছেনা৷ কেন্দ্রের এই প্রবণতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন৷ বিধায়ক পদ্মকুমার দেববর্মা আনীত এই বেসরকারি প্রস্তাবকে সমর্থন করে গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী নরেশ চন্দ্র জমাতিয়া বলেন, গ্রামীণ গরীব মানুষের কর্মসংস্থান ও গ্রামীণ এলাকায় সম্পদ সৃষ্টিতে এম জি রেগায় গুরুত্ব অপরিসীম ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাঙ্ক এই আইনকে গ্রামীণ এলাকা উন্নয়নে একটি নক্ষত্রকচিত উদাহরণ হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছে৷ ২০০৬ সাল থেকে আমাদের রাজ্যে এই কর্মসূচী চালু হওয়ার পর গ্রামীণ ক্ষেত্রে অনেক সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে৷ তিনি বলেন, গ্রামীণ শ্রীমজীবী মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়াতে এবং গ্রামে যে সব ক্ষেত্রে সম্পদ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে তাকে কাজে লাগাতে এই কর্মসূচীতে দুইশত দিন কাজের সুযোগ নিশ্চিত করা ও মজুরী প্রদান পদ্ধতি সরল করা প্রয়োজন৷
গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই কর্মসূচীকে সংকুচিত করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য মজুরি প্রদান পদ্ধতি চালু করে কৌশলে এই কর্মসূচী বন্ধ করে দিতে চাইছেন৷ তিনি বলেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখেই রাজ্যে এম জি এন রেগা কর্মসূচী রূপায়ন করা হচ্ছে৷ কেন্দ্র থেকে মজুরী প্রদান চালু করেছিলাম৷ পরবর্তী সময়ে কেন্দ্র থেকে প্রথমে ই এফ এম এস পরে তা পরিবর্তন করে পি এফ এম এস পদ্ধতি চালু করে৷ কিন্তু বছর না যেতেই মজুরি প্রদান পদ্ধতির আবার পরিবর্তন করা হল৷ একটা পদ্ধতিতে অভ্যন্ত হতে না হতেই নেশনাল ই এফ এম এস পদ্ধতি চালুর নির্দেশ দেওয়া হল৷ প্রতিটি পদ্ধতিই সাফল্যের সাথে রাজ্যে করা হয়েছে৷ আমরা স্বচ্ছতা চাই বলেই এম জি এন রেগা সাফল্যের সাথে রূপায়ি ত করতে পারছি৷ রেগাতে ত্রিপুরার সাফল্য দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে৷
গ্রামোয়ন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, মজুরি প্রদান পদ্ধতির নতুন নিয়মে মজুরি প্রদান বিলম্ব হচ্ছে৷ মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে৷ নেশন্যাল ই এফ এম এস পদ্ধতিও ত্রুটিমুক্ত নয়৷ গরীব মানুষদের মজুরি প্রদান জটিল থেকে জটিলতর করা হচ্ছে৷ গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী রেগায় ২০০ দিনের কাজের দাবী যুক্তিপূর্ণ বলে জানান, শহরেও অনুরূপ প্রকল্প চালু হওয়া দরকার৷

Releated Posts

কর্ণাটক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে কেউ ইস্তফা দেননি, দলে কোনও অসন্তোষ নেই: কংগ্রেস সভাপতি বি. কে. হরিপ্রসাদ

বেঙ্গালুরু, ৪ আগস্ট (আইএএনএস): কর্ণাটকে সাম্প্রতিক মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণকে ঘিরে কংগ্রেসের অন্দরে ব্যাপক অসন্তোষের জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কর্ণাটক প্রদেশ…

ByByNews Desk Aug 4, 2026

সমঝোতার সম্ভাবনায় আপাতত ইরানে হামলা স্থগিত, দাবি ট্রাম্পের; হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ

ওয়াশিংটন, ২ আগস্ট (আইএএনএস): যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র আপাতত…

ByByNews Desk Aug 2, 2026

সূর্য ঘরে এখন ১৫ মেগাওয়াটের শক্তি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নীরব বিপ্লব রাজ্যে

আগরতলা, ২৮ জুলাই:একটি বাড়ির ছাদে কয়েকটি সোলার প্যানেল। সেখান থেকেই তৈরি হচ্ছে বিদ্যুৎ। সেই বিদ্যুৎ যাচ্ছে বাড়ির আলো,…

ByByReshmi Debnath Jul 28, 2026

অক্সিলিয়াম গার্লস স্কুলে ‘আউক্সি ইগনিট এনোএল এক্সিবিশন ২০২৬’, ছাত্রীদের সৃজনশীলতা ও প্রতিভার প্রকাশ

আগরতলা, ২৫ জুলাই: ছাত্রীদের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশের লক্ষ্যে অক্সিলিয়াম গার্লস স্কুল, আগরতলার উদ্যোগে বিদ্যালয়…

ByByNews Desk Jul 25, 2026
Scroll to Top