নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৫ এপ্রিল৷৷ গরু খঁুজতে গিয়ে নিখোঁজ এক মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার হল কল্যাণপুর থানা এলাকার বরইগোটা এলাকা থেকে৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ গত ১১ এপ্রিল রাতে কল্যাণপুর থানা এলাকার শান্তিনগর বরইগোটা গ্রামে মীরা শুক্লা দাসের মৃতদেহ পাওয়া যায় খোয়াই নদীর পাশে পরিত্যক্ত স্থানে৷ মীরা শুক্লা দাস গরুর খোঁজে বাড়ি থেকে বের হন ১১ এপ্রিল সন্ধ্যায়৷ আর বাড়ি ফিরেননি৷ রাতে তার মৃতদেহ মিলে৷ পুলিশ প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা গ্রহণ করে৷ মৃত পরিবারের পক্ষে দাবি করা হয় যে খুন হয়েছে মহিলার৷ প্রসঙ্গত মৃতার ছেলে প্রসেনজিৎ শুক্লা দাস গত ২০১৫ সালের ১ নভেম্বর খুন হয়৷ গ্রামের বাসিন্দা ইন্দ্রজিৎ শুক্লা দাসের বিরুদ্ধে মামলা করে৷ তখন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠায়৷ গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইন্দ্রজিৎ জামিনে বাড়িতে আসে৷ মৃত গৃহবধূর স্বামী অরুণ শুক্লা দাসের অভিযোগ ইন্দ্রজিৎ শুক্লা দাস জেল থেকে এসে উনার স্ত্রীকেও খুন করে বলে অভিযোগ৷ কল্যাণপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানান৷ এবং এই অভিযোগপত্র মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এবং পুলিশের বড় আধিকারিকের কাছে পাঠানো হয় বলে খবর৷ পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে৷
তথাকথিত শিক্ষিত ও ভদ্র সমাজব্যবস্থায় পণের দায়ে বধূ নির্যাতন ও হত্যাকান্ডের ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে৷ রাজধানী আগরতলা শহরের ধলেশ্বর ১৪ নম্বর রোডের কার্গিল বাজার সংলগ্ণ নতুন পল্লীতে শ্বশুরের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন এক গৃহবধূ৷ আহত গৃহবধূটির নাম বৈশাখি ভৌমিক৷ বর্তমানে তিনি জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন৷ ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সকাল নাগাদ৷ অভিযুক্ত শ্বশুরের নাম নুপুর মজুমদার৷ তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক৷ আহত গৃহবধূর স্বামীর নাম প্রশান্ত মজুমদার৷ তিনি একজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার৷ ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ধলেশ্বর ১৪ নম্বর রোড এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে৷ সংবাদ সূত্রে জানা যায়, গৃহবধূ বৈশাখী ভৌমিকর উপর বেশ কিছুদিন ধরেই স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনরা নানা অজুহাতে নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন৷ তাতে অতিষ্ঠ হয়ে গৃহবধূ বৈশাখী ভৌমিক আগরতলা পূর্ব মহিলা থানা এবং মহিলা কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন৷ সে কারণেই গৃহবধূর উপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে পরিকল্পিতভাবে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ৷ জানা যায়, বৈশাখী ভৌমিকর স্বামী প্রশান্ত মজুমদার গতকাল রাতে বাড়িতে ছিলেন না৷ বৈশাখী শ্বশুর নুপুর মজুমদার সোমবার সকালে নিজেকে অসুস্থ বলে গৃহবধূকে ঘুম থেকে উঠার জন্য ডাকেন৷ সে অনুযায়ী ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে গৃহবধূর উপর হামলা চালায় শ্বশুর৷ রক্তাক্ত অবস্থায় গৃহবধূটি আত্মরক্ষার জন্য বাড়ির দেওয়াল টপকে রাস্তায় এসে চিৎকার শুরু করে৷ তখনই প্রতিবেশীরা বেরিয়ে আসে৷ রক্তাক্ত অবস্থায় গৃহবধূকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷ ঘটনার খবর পেয়ে আগরতলা পূর্ব মহিলা থানার পুলিশ ছুটে যায়৷ এব্যাপারে একটি মামলা গৃহীত হয়েছে৷ পুলিশ অভিযুক্ত শ্বশুর নুপুর মজুমদার এবং স্বামী প্রশান্ত মজুমদারকে খঁুজছে৷ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এলাকাবাসীর তরফেও দাবি জানানো হয়েছে৷
2016-04-26

