নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ ফেব্রুয়ারী৷৷ সিপিএমের সাথে জোট হলে রাজ্যে কংগ্রেস ভেঙ্গে টুকরো হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ চিন্তিত কংগ্রেস বিধায়করা দলত্যাগ করারও সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন৷ সূত্রের খবর কংগ্রেসের সাত বিধায়ক সিপিএমের সাথে জোট হলে দল ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করছেন৷ এনিয়ে ইতিমধ্যে তপসিয়া ভবনে বার্তাও পাঠানো হয়েছে৷ সূত্র অনুসারে জানা গিয়েছে তৃণমূল নেত্রীর দূত হয়ে আগামী ২৮ কিংবা ২৯ ফেব্রুয়ারী অথবা মার্চের প্রথম সপ্তাহে রাজ্যে আসবেন ত্রিপুরার দায়িত্বপ্রাপ্ত দলীয় পর্যবেক্ষক তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখার্জী৷
সূত্রের খবর, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি থেকে শুরু করে বিরোধী দলনেতা সহ কংগ্রেসের সাত বিধায়ক ইতিমধ্যেই দলত্যাগের বিষয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষণ করেছেন৷ জানা গিয়েছে, বীরজিৎ সিনহা, সুদীপ রায় বর্মন, আশিষ কুমার সাহা, দিলীপ সরকার, দিবাচন্দ্র রাঙখল, জীতেন সরকার এবং প্রণজিৎ সিংহ রায় তৃণমূলের দিকে পা বাড়িয়ে রেখেছেন৷ সিপিএমের সাথে যাতে জোট না হয় সেই বিষয়ে হাইকমান্ডকে মৃদু হুমকিও দিয়ে রেখেছেন তাঁরা৷ তবে, গোপাল রায়, রতন লাল নাথ এবং বিশ্ববন্ধু সেন কংগ্রেসেই থাকবেন বলে বীরজিৎ সিনহাদের জানিয়ে দিয়েছেন৷ সূত্রের খবর, বীরজিৎ সিনহাদের তরফে গোপাল রায়, রতন লাল নাথ এবং বিশ্ববন্ধু সেনকে দলত্যাগের বিষয়ে আবেদন জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু, সেই আবেদন অগ্রাহ্য করে দিয়েছেন ঐ তিন নেতা তথা বিধায়করা৷
সূত্র অনুসারে জানা গিয়েছে, কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে বীরজিৎ সিনহা ও সুদীপ রায় বর্মন কিছু শর্ত রেখেছেন৷ দলত্যাগ করা হলে প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি পদে বীরজিৎ সিনহাকে এবং বিরোধী দলনেতার পদে সুদীপ রায় বর্মনকে রাখতে হবে বলে শর্তারোপ করা হয়েছে৷ এনিয়ে অবশ্য তৃণমূলের পক্ষ থেকে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি৷ তবে, শীঘ্রই কালিঘাটে তপসিয়া ভবনে কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগদানের বিষয় নিয়ে সাত বিধায়ক বৈঠক করবেন৷
সূত্রের খবর, সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী ষাট আসন বিশিষ্ট বিধানসভায় বিরোধী দলের সাত বিধায়ক একত্রে যদি দল ত্যাগ করেন তাহলে তাঁদের বিধায়ক পদ বহাল থাকবে৷ ফলে, বীরজিৎ সিংহরা জোটের বিরোধীতায় একসাথে সাত বিধায়ক দলত্যাগের পরিকল্পনা নিয়েছেন৷
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের বিশ্লেষণ অনুসারে দলত্যাগী সাত বিধায়কের সাথে তৃণমূল কংগ্রেস কতটা আপোষ করবে তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে৷ সূত্রের খবর, রাজ্যে তৃণমূলের অধিকাংশ নেতৃত্বরা বীরজিৎ সিনহাদের অভ্যর্থনা জানালেও দলের উচ্চস্তরীয় পদ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে আপত্তি জানাতে পারেন৷ সেক্ষেত্রে বীরজিৎ সিনহা প্রদেশ তৃণমূলের সভাপতি পদের যে শর্ত রেখেছেন তা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে এনিয়ে প্রশ্ণ রয়েছে৷
2016-02-18