স্মার্ট সিটির প্রথম কুড়িতে আগরতলার নাম না থাকায় রাজ্য সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করিয়াছে৷ নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মানিক দে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে প্রথম কুড়িটিতে নাম না থাকায় হতাশা ব্যক্ত করিয়াছেন৷ চিঠিতে তিনি উল্লেখ করিয়াছেন, আগরতলাকে স্মার্ট সিটি করার প্রস্তাব মন্ত্রকের নীতি নির্দেশিকা অনুযায়ী সময়মতো পাঠানো হইয়াছিল৷ মন্ত্রী আশংকা প্রকাশ করিয়াছেন যে আধিকারিকরা প্রস্তাবগুলি পরীক্ষা নিরীক্ষার দায়িত্বে ছিলেন তাঁহারা কাজটি সঠিকভাবে করেন নাই৷ আগরতলাকে স্মার্ট সিটির তালিকায় যুক্ত করিতে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে অনুরোধ জানাইয়াছেন৷ অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় কেবিনেট সচিব আগরতলা পুর নিগমের কমিশনার ও মুখ্যসচিবের সঙ্গে কথা বলিয়াছেন৷ তিনি জানাইয়াছেন, আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে আরও আধুনিক স্মার্ট সিটির পরিকল্পনা প্রস্তাব জমা দিয়া ফাস্টট্র্যাক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন৷ তিনি জানাইয়াছেন যেসব রাজ্যগুলি স্থান পায় নাই সেগুলি দূর্বলতা কাটাইয়া আরও উন্নত প্রস্তাব দিবার পরামর্শ দিয়াছেন৷
দেশের বিভিন্ন রাজ্যের নগরোন্নয়নে কেন্দ্রের স্মার্ট সিটির পরিকল্পনা এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ সে বিষয়ে সন্দেহ নাই৷ উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির মধ্যে ত্রিপুরা প্রত্যন্ত, পাহাড় ঘেরা ও যোগাযোগের দিক দিয়া পিছাইয়া পড়া রাজ্য৷ অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে এই রাজ্যের তুলনা চলিতে পারে না৷ স্মার্ট সিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি কতখানি মাথায় রাখা হইয়াছে সে প্রশ্ণ উঠিতে পারে৷ একথা তো ঠিক, ইতিপূর্বে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য শহর আগরতলা পুরস্কার আনিয়াছে৷ সেই দিক দিয়া ধরিয়া নেওয়া হইয়াছিল স্মার্ট সিটির প্রথম তালিকায় ত্রিপুরা বা আগরতলার নাম থাকিবে৷ আশার গুড়ে এইভাবে বালি পড়িবে তাহা ভাবা যায় নাই বলিয়া রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রীই শুধু নন রাজ্যের মানুষও হতাশ হইয়াছেন৷ আগরতলা শহর দিনে দিনেই সুসজ্জিত হইতেছে, এলাকাও বাড়ানো হইতেছে৷ রাজন্য আমলে তখনকার লোকসংখ্যা, যান বাহন ইত্যাদির উপর প্রভাবিত হইয়া যে আগরতলা শহরের পত্তন হইয়াছিল আজ তো তাহা অন্যভাবে, বৃহৎ আকারে পরিকল্পনার প্রয়োজন হইয়া পড়িয়াছে৷ শহরের সংকীর্ণ রাজপথ প্রশস্ত করিতে ড্রেইনগুলির উপর কংক্রিটের আচ্ছাদন দিতে হইতেছে৷ কোথাও ড্রেইনের উপর ইমারত তৈরী করা হইয়াছে৷ একেবারেই সীমাবদ্ধতার মাঝে শহর সৌন্দর্য্য গড়িয়া তুলিবার প্রয়াস চলিতেছে৷ মূল শহরের আয়তন বাড়ানো হইয়াছে৷ ক্যাপিটেল কমপ্লেক্সে মহাকরণ, বিধানসভা, হাইকোর্ট ইত্যাদি ইতিমধ্যেই স্থানান্তর হইয়াছে৷ রাজ্যের নগরোন্নয়ন দপ্তর এইসব বিষয় মাথায় রাখিয়াই নিশ্চয়ই স্মার্ট সিটির প্রস্তাব জমা দিয়াছেন৷ একথা সত্যি যে, আগরতলা পুর এলাকায় বহু গ্রামীণ এলাকাকে অন্তর্ভূক্ত করিয়া ওয়ার্ড সংখ্যা বাড়ানো হইয়াছে৷ লোকসংখ্যা ও আয়তন ইত্যাদি নিয়াই সিটি ঘোষিত হয়৷ যেসব গ্রামীণ এলাকাকে পুর নিগমের আওতায় আনা হইয়াছে সেগুলিতে শহরের ছোঁয়া নাই বলিলেই চলে৷ সেখানে পুর এলাকার উন্নয়ন কর্মসূচীরও তেমন দেখা নাই৷ এই যখন অবস্থা তখন স্মার্ট সিটির উল্লেখযোগ্য প্রকল্প রচনাও কঠিন কাজ সন্দেহ নাই৷ এই প্রকল্প রচনার প্রতিযোগিতায় সত্যিই এই ত্রিপুরা পিছাইয়া পড়িল? যদিও রাজ্যের নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মানিক দে তাহা মানিতে নারাজ৷ পরীক্ষা নীরিক্ষার কাজে নিযুক্ত আধিকারিকরা কোথাও ভুল করিয়াছেন৷ রাজ্যের মন্ত্রীর অনুরোধ মোতাবেক ত্রিপুরার প্রকল্প আবার খতাইয়া দেখা উচিত৷ আগরতলা অদূর ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র হিসাবে আত্মপ্রকাশ করিতে চলিয়াছে৷ চট্টগ্রাম বন্দর খুলিয়া গেলে ত্রিপুরাই হইবে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার ৷ এই প্রেক্ষাপটে শহর আগরতলার গুরুত্ব বাড়িয়া যাওয়ার সম্ভাবনার প্রেক্ষিতেও, স্মার্ট সিটির প্রথম তালিকায় ত্রিপুরার অন্তর্ভূক্তির তাগিদ কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকও অস্বীকার করিবার বোধহয় সুযোগ নাই৷
রাজন্য আমলের এই শহর ধীরে ধীরে আধুনিকতার ছোঁয়ায় বর্দ্ধিত হইতেছে৷ এই শহর খুব বেশী প্রাচীন না হইলেও তাহার ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম৷ বহু মনীষির আগমেন ধন্য হইয়াছে এই শহর৷ বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে আগরতলার ভূমিকা কৃতজ্ঞ চিত্তে এখনও স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী হাসিনা৷ ছোট্ট অথচ ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহনকারী এই শহর বঞ্চিত হইবে, স্মার্ট সিটির দৌড়ে পিছাইয়া যাইবে তাহা কাম্য হইতে পারে না৷ রাজ্যের অনুরোধ কেন্দ্র যদি মানিয়া নেয় ভাল৷ তাহা না হইলে স্মার্ট সিটির প্রতিযোগিতা হইতে পিছাইয়া থাকিলে চলিবে না৷ সেই প্রস্তুতি এখনই শুরু করিতে হইবে৷ তিল তিল করিয়া আগরতলাকে তিলোত্তমা করিবার দীর্ঘলালিত স্বপ্ণ পূরণ করিতেই হইবে৷ পিছাইয়া থাকিলে চলিবে না৷
2016-01-31