গুয়াহাটি যোরহাট (অসম), ৭ জানুয়ারি, (হি.স.) : জীবনাবসান ঘটেছে রাজ্যের দুই নক্ষত্রের| গতকাল বেলা প্রায় ১২.১০ মিনিট নাগাদ অসমের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক, অভিনেতা বিশিষ্ট অভিনেতা তথা সাংসদ, সাহিত্যিক প্রয়াত হেমচন্দ্র বরুয়ার কনিষ্ঠ ভাই প্রফুল্লকুমার বরুয়ার পর আজ ভোরে জীবনাবসান ঘটেছে অসমের ভেষজরত্ন ড. গুণরাম খনিকরের| দুই বিশিষ্ট ব্যক্তির প্রয়াণে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ অসংখ্য গুণমুগ্ধ শোক ব্যক্ত করেছেন| গতকাল রাতে বুকে ব্যথা অনুভব করলে ড. গুণরাম খানিকরকে গুয়াহাটির ডাউনটাউন হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছিল| কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি| ডাক্তাররা বলেছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃতু্য হয়েছে| মৃতু্যকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর| গুনরাম বনৌষধির ওপর প্রায় তিরিশখানা বই লিখেছেন| এগুলির মধ্যে সহজলভ্য বন দরবর গুণ (বাংলায় সহজলভ্য বনৌষধির গুণ) তাঁর জনপ্রিয় বইয়ের মধ্যে অন্যতম| তাঁর চিকিসায় রাজ্য ছাড়িয়ে বহির্রাজ্যের বহু রোগী সুস্থ হয়েছেন| তাঁর নিজেরও কোনও রোগ ছিল না| মৃতু্য পর্যন্ত ঝরঝরে কথা বলতেন, শ্রবণশক্তি ছিল তীক্ষ্ণ, দৃষ্টিশক্তিও ছিল প্রখর| গতকাল সন্ধে পর্যন্ত নাকি তিনি বনৌষধির গাছের সন্ধানে অনুপ বরার বাড়িতে গিয়েছিলেন| রাশিয়ান প্রজাতির একধরনের গাছ ওষুধের জন্য বরাবাবুর কাছ থেকে চেয়েছিলেন তিনি| অনুপও তাঁকে যখন দরকার হবে তখন তা নিতে সাগ্রহে গুণরামবাবুকে বলেছিলেন বলে জানিয়েছেন| আজ তাঁর মৃতু্যর খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়লে অসংখ্য গুণমুগ্ধের ভিড় জমেছে হাসপাতালে| এখানে গুণমুগ্ধদের শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর তাঁর মূল বাড়ি গোলাঘাট জেলার তেতেলিগাঁওয়ে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে|
এদিকে, গতকাল বার্ধক্যজনিত কারণে ৮৬ বছর বয়সে যোরহাটে তাঁর নিজের বাড়ি তারাজানে প্রয়াত হয়েছেন রাজ্যের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজক, অভিনেতা বিশিষ্ট অভিনেতা তথা সাংসদ প্রফুল্লকুমার বরুয়া| তিনিও এদিন দুপুর পর্যন্ত অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছিলেন| কিন্তু দুপুরে আকস্মিকভাবে মৃতু্যবরণ করেন| যোরহাটেই তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৯২৯ সালে| ১৯৮৯ সালে জয়সাগর কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে অবসর নেওয়ার আগে তিনি বেশ কয়েকটি থিয়েটার এবং ছায়াছবিতে অভিনয় করেছিলেন| একসময় অসমিয়া দুটি চলচ্চিত্রের প্রয়োজনাও করেছিলেন তিনি| রশ্মিরেখা ও রজনীগন্ধা নামের দুটি ছবি প্রযোজনা করে তিনি চলচ্চিত্র জগতে তাঁর প্রতিভা প্রতিষ্ঠিত করেন| ১৯৭৩ সালে প্রফুল্ল বরুয়া প্রযোজিত রশ্মিরেখা সে-সময় দর্শকদের কাছে বেজায় সমাদর লাভ করে বিপুল জনপ্রিয় হয়েছিল| এরপর রজনীগন্ধা নামের ছায়াছবি প্রযোজনা করতে গিয়ে অর্থ-সংকটে পড়েছিলেন তিনি| অবশেষে সামসাং হ্যান্সের সহযোগিতায় এই ছবির নির্মাণকার্য সম্পূর্ণ করেছিলেন| তাছাড়া, অতুল বরদলৈয়ের অনুতাপ এবং দেউতি বরুয়ার বৃষ্টি নামের ছায়াছবি দুটিতে বলিষ্ঠ অভিনয় করেছিলেন বরুয়া| গোটা রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে অজস্র নাটক পরিচালনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন তিনি| তারাজান সম্মিলন এবং যোরহাট থিয়েটারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তাঁর|
2016-01-07