আমরা বাঙালীর সভায় হামলা-হুজ্জতির অভিযোগ

আগরতলা, ১০ ডিসেম্বর (হি.স.)৷৷ ত্রিপুরায় বাঙালিদের বাংলাদেশি বলে অপবাদ দেওয়া, বিভিন্ন অপহরণের ঘটনা এবং জাতীয় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশের গুলিতে শ্রীকান্ত দাসের মৃত্যুর ঘটনায় এখনও কোনও বিচার না হওয়ায় বৃহস্পতিবার উত্তর ত্রিপুরা জেলা সদর ধর্মনগরে ‘আমরা বাঙালী’ দল এক বিক্ষোভ মিছিল এবং পথসভার আয়োজন করেছিল৷ ওই পথসভা বানচাল করার উদ্দেশ্যে দুষৃকতকারীরা হামলা-হুজ্জতি করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে৷ অবশ্য পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে৷


আজ বেলা দুটা নাগাদ ধর্মনগর মোটর স্ট্যান্ডের সামনে থেকে ‘আমরা বাঙালী’র উত্তর ত্রিপুরা জেলা কমিটি এক মিছিল শুরু হয়ে সারা শহর পরিক্রমা করেছে৷ মিছিলটি পুরাতন মোটর স্ট্যান্ডন্র সামনে এসে থামে৷ ওখানে দলের একটি কার্যালয় রয়েছে৷ দলীয় নেতা-কর্মীরা সেখানে এক পথসভার আয়োজন করেছিলেন৷ কিন্তু, সভা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে একদল দুষৃকতী গিয়ে বক্তাদের হাত থেকে মাইক কেড়ে নেয়৷ তাতে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়৷ মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি রণক্ষেত্রের রূপ ধারণ করে ফেলে৷ তবে পুলিশ খুব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়৷

এ-বিষয়ে ‘আমরা বাঙালী’-র পর্ষদ সচিব প্রাণগোপাল পাল বলেন, ত্রিপুরায় বাঙালিদের বাংলাদেশি তকমা গায়ে লাগিয়ে অপমান করা হচ্ছে৷ তাঁর কথায়, এ-রাজ্যের জনজাতি অংশের মানুষ যতটা এ-দেশের নাগরিক, বাঙালিরাও ঠিক ততটাই ভারতীয়৷ সাথে তিনি যোগ করেন, সম্প্রতি বেছে বেছে বাঙালিদের অপহরণ করা হচ্ছে৷ এই বিষয়টি গভীর উদ্বেগের বলে তিনি দাবি করেন৷ প্রাণগোপাল বাবু বলেন, জাতীয় সড়ক অবরোধ কর্মসূচি চলাকালীন পুলিশের গুলিতে শ্রীকান্ত দাসের মৃত্যু হয়েছে৷ অথচ, এখনও তার কোনও বিচার হয়নি৷ দোষীকে খোঁজে বের করেনি প্রশাসন৷ এ-সমস্ত বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল এবং পথসভার আয়োজন করেছিল ‘আমরা বাঙালী’৷ কিন্তু তা বানচাল করার উদ্দেশ্যে আমাদের উপর আক্রমণ করা হয়েছে৷
পুলিশের বক্তব্য, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল ঠিকই৷ কিন্তু, পুলিশ সময়মতো হস্তক্ষেপ করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে৷