নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৬ জুন৷৷ অমরপুরের রাংকাং এলাকায় এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে৷ গৃহবধুটির নাম সঞ্জু দাস৷ স্বামীর নাম শঙ্কু দাস৷ স্বামী পেশায় টিএসআর জোয়ান৷ পারিবারিক কলহের জেরেই গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে৷ ঘটনার বিবরণে জানা যায় অমরপুরের রাংকাং এলাকার টিএসআর জোয়ান শংকর দাস ও তার স্ত্রী সঞ্জু দাস অমরপুরের ফটিক সাগরের দক্ষিণ পাড়ে ভাড়া থাকতো৷
তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে৷ টিএসআর জোয়ান শঙ্কু দাস পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে৷ বিষয়টি তার স্ত্রী সঞ্জু দাস জানতে পারেন৷ স্বামীকে পরকীয়া প্রেমে বাধা দেন স্ত্রী সঞ্জু দাস৷ তাতেই বিপত্তি৷ এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই ঝামেলা চলছিল৷ এরজল বহুদূর পর্যন্ত গড়াতে থাকে৷ স্ত্রী সঞ্জু দাস তার স্বামীর অবৈধ সম্পর্ক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছিল না৷ পরকীয়া প্রেমে বাধা দিয়ো কোন কিনারা করতে পারছিল না৷ এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝামেলা দিনের পর দিন বাড়তে থাকে৷ শুক্রবার সকালে স্ত্রী সঞ্জু দাস তাদের গ্রামের বাড়ি রাংকাং চলে যায়৷ বাড়িতে শাশুড়ি সহ পরিবারের অন্যান্য লোকজনরা রয়েছেন৷ এদিকে টিএসআর জোয়ান শঙ্কু দাস তার স্ত্রীকে ভাড়া বাড়িতে খুঁজে পাচ্ছিল না৷ খুঁজতে খুঁজতে গ্রামের বাড়িতে এসে দেখে ঘরের দরজা বন্ধ রয়েছে৷ দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে সঞ্জুর ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পায় স্বামী ও পরিবারের লোকজনরা৷ তাতে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের মাথায় বাজ পরার উপক্রম৷ ঘটনার খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন৷
খবর পাঠানো হয় বীরগঞ্জ থানায়৷ পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে নিয়ে যায়৷ স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে সঞ্জু মৃত্যুর আগে একটি সুইসাইড নোট লিখে গেছে৷ তবে বীরগঞ্জ থানার পুলিশ সুইসাইড-নোট সম্পর্কে এখনও পর্যন্ত মুখ খুলতে নারাজ৷ এদিকে মৃতার বাপের বাড়ির তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে সঞ্জুকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে৷ এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলেও অভিযোগ করেছে মৃতার ভাই৷ বীরগঞ্জ থানার পুলিশ এ ব্যাপারে একটি মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ক্রমে সঞ্জুর মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের জন্য এলাকার জনগণ জোরালো দাবি জানিয়েছেন৷



