নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৯ অক্টোবর৷৷ রাজ্যের প্রাক্তন পূর্তমন্ত্রীকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থতার দায়ে আরও এক পুলিশ আধিকারিক বরখাস্ত হয়েছেন৷ ডিআইবি শাখার ডিএসপি বনোজ বিপ্লব দাসকে আজ বরখাস্ত করা হয়েছে৷ তাঁকে নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট নয় পুলিশ আধিকারিক বরখাস্ত হয়েছেন৷ এর পরও বাদল চৌধুরীকে খুঁজে বের করতে পারছে না পুলিশ৷ এদিকে, পূর্ত দপ্তরের প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ সুনীল ভৌমিককে আজ ফের আদালত পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছে৷

প্রসঙ্গত, বাদলকে খুঁজতে ব্যর্থতার দায়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা পুলিশ সুপার অজিত প্রতাপ সিংকে বরখাস্ত এবং ডিআইজি দক্ষিণাঞ্চল অরিন্দম নাথকে অপসারণ করেছে রাজ্য সরকার৷ শাস্তির খড়গ চালানো এখানেই থেমে থাকেনি৷ পুলিশ প্রশাসনে সম্প্রতি মাঝারি ধরনের রদবদলও করা হয়েছে৷ শুধু তা-ই নয়, বাদল চৌধুরীর তিন দেহরক্ষী প্রদীপ আচার্য, অমর সরকার এবং অমল দাসকেও বরখাস্ত করা হয়েছে৷
শুক্রবার দিনভর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিহিরলাল দাসের নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী সারা আগরতলায় দফাওয়ারি তল্লাশি চালিয়েছে৷ আগরতলায় শঙ্কর চৌমুহনি, রামনগর, কৃষ্ণনগর এলাকায় দুই শতাধিক বাড়িঘরে বাদল চৌধুরীর খুঁজে তল্লাশি করেছে পুলিশ৷ তাঁদের মধ্যে কয়েকজন চিকিৎসক রয়েছেন যাঁরা বাদলবাবুর চিকিৎসা করেন৷ কিন্তু তাঁকে কোথাও খুঁজে পায়নি পুলিশ৷
এরই মধ্যে শুক্রবার পশ্চিম আগরতলা থানার ওসি দেবপ্রসাদ রায়কে বরখাস্ত করেছে পুলিশ প্রশাসন৷ সম্ভবত, বাদল চৌধুরীকে খুঁজতে ব্যর্থতার কারণেই তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছে৷ তাছাড়া, ওই তালিকায় রয়েছেন তিন গোয়েন্দা কর্মীও৷ শ্যামল দেববর্মা, কিশোর রাউথ এবং রঞ্জিত দেববর্মা ওই তিন গোয়েন্দা কর্মীকেও বরখাস্ত করা হয়েছে৷ তাঁদের বরখাস্তের পেছনে বাদল চৌধুরীর সন্ধান দিতে না পারার কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে৷ এদিকে, আমতলী থানার ওসি সুব্রত চক্রবর্তীকে পশ্চিম আগরতলা থানা এবং ইন্সপেক্টর সিদ্ধার্থ করকে আমতলি থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে৷
আজ শাস্তির তালিকায় নব সংযোজন ডিআইবি শাখার ডিএসপি বনোজ বিপ্লব দাস৷ ত্রিপুরা সরকারের সাধারণ প্রশাসনের অবর সচিব অনিমেশ দাস এক নির্দেশিকা জারি করে তাঁকে বারখাস্তের আদেশ জারি করেছেন৷ তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে, তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ জারি হয়েছে৷ তবে, বাদালকাণ্ডেই বনোজ বিপ্লব দাসের ঘাড়েও শাস্তির খড়গ ঝুলেছে, তা অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে গেছে৷ অবশ্য, আরও কয়েকজন পুলিশ কর্মী বরখাস্ত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে৷
এদিকে, চারদিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে পূর্ত দপ্তরের প্রাক্তন ইঞ্জিনিয়ার ইন চিফ সুনীল ভৌমিককে আজ পূনরায় আদালতে তোলা হয়েছিল৷ আদালত তাকে ফের পাঁচ দিনের পুলিশ রিমান্ডে পাঠিয়েছে৷

