বরপেটা (অসম), ১৭ অক্টোবর (হি.স.) : ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (নিয়া বা জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা)-র প্রধান সোমবার বলেছিলেন, অসমে বাংলাদেশের ‘ইসলামিক সন্ত্ৰাসবাদী’ সংগঠন জামাত-উল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর কট্টর জেহাদিরা ঘাঁটি গেড়েছে। নিয়া-প্রধানের আশঙ্কা প্রকাশের পরের দিনই নিম্ন অসমের বরপেটায় ধরা পড়েছে এক জেএমবি-র এক কট্টর সদস্য।

বৃহস্পতিবার জেলার পুলিশ সুপার রবীন কুমার এ খবর দিয়ে জানান, তাঁর নেতৃত্বে সশস্ত্র পুলিশের এক দল মঙ্গলবার জামাত-উল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর কট্টর এক সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত জেএমবি সদস্য বরপেটা জেলার রৌমারি গ্রামে আজাহার উদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, নির্ভরযোগ্য সূত্ৰের কাছে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আজাহার উদ্দিনকে তারে ঘরে যাওয়ার পথে বরপেটা শহরে বারাদি পুলিশ রিজাৰ্ভ সংলগ্ন এলাকা থেকে প্রথম আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ সুপার রবীন কুমার জানান, ধৃত আজহার উদ্দিনের হেফাজত থেকে আন্তর্জাতিক পাসপোৰ্ট-সহ কিছু আপত্তিকর প্রমাণিক নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সে নাকি জেএমবি-র স্লিপার সেলের নেতৃত্ব দিত। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে সে অসমের বাইরে বিভিন্ন রাজ্যে আত্মগোপন করে জেহাদি কার্যকলাপ চালানোর প্রচেষ্টা করছিল। তার বিরুদ্ধে এর আগের বিভিন্ন মামলা ঝুলছে। বুধবার তাকে বরপেটা আদালতে পেশ করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের হেফাজতে পুলিশ নিয়েছে, জানান এসপি রবীন কুমার।
প্রসঙ্গত, এর আগে গত ৩০ জুলাই বরপেটা জেলার গ্রাম থেকে জামাত-উল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)-এর কট্টর তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তারা হাফিজুর রহমান, ইয়াকুব আলি এবং শরিফুল ইসলাম বলে পরিচয় পাওয়া গেছে। ধৃত হাফিজুর রহমান কারাগাড়ি গ্রামের বসিন্দা। এ-ছাড়া ইয়াকুব আলি কয়াকুচি পাম এবং শরিফুল ইসলামের মূল ঘর কয়াকুচিতে। সেদিন ধৃত হাফিজুর রহমানের কাছ থেকে একটি পিস্তল এবং চার রাউন্ড সক্রিয় গুলিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, গত ২০১৪ সালের ২ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার খাগড়াগড়ে সংঘটিত বোমা বিস্ফোরণের তদন্তের সূত্রে অসমেও জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) তৎপরতা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা নিয়া। ওই বিস্ফোরণের অন্যতম মাস্টার মাইন্ড অসমের বরপেটা জেলার সর্থেবাড়ি এলাকার চতলা গ্রামের বাসিন্দা কুখ্যাত জেহাদি জঙ্গি শাহানুর আলম ওরফে ডাক্তারবাবুর সঙ্গে বেশ কয়েকজন জেহাদিকে সুরক্ষাবাহিনীর সহযোগিতায় আটক করেছিল এনআইএ। ধৃত জেহাদিরা তাদের স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছিল ‘স্লিপার সেল’ নামের একটি জেহাদি গোষ্ঠী গড়ে জেএমবি অসমে তাদের ভিত শক্ত করার চেষ্টা চালিয়েছে।

