News Flash

  • Home
  • Uncategorized
  • ঐক্যবদ্ধ ভারতের রূপকার ও আধুনিক ভারতের স্রষ্টাকে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য
Image

ঐক্যবদ্ধ ভারতের রূপকার ও আধুনিক ভারতের স্রষ্টাকে বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য

নরেন্দ্র মোদী

প্রধানমন্ত্রী

১৯৪৭ সালের প্রথমার্ধ ছিল ভারতের ইতিহাসে অত্যন্ত সঙ্কটময় সময়৷ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান তো নিশ্চিতই ছিল, নিশ্চিত ছিল দেশভাগের বিষয়টিও৷ কিন্তু, যা অনিশ্চিত ছিল, তা হল একের বেশি অংশে দেশ বিভক্ত হবে কিনা৷ দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পাচ্ছিল, খাদ্য সংকটও ছিল সাধারণ সমস্যা৷ তবে, সব কিছুর ওপরে দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ৷ এই পরিস্থিতিতে ১৯৪৭ সালের মধ্যভাগে সরকারি দপ্তরগুলি কাজ করে৷ এই দপ্তরগুলির প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল দেশীয় রাজন্য শাসিক ৫৫০টিরও বেশি রাজ্যকে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত করা৷ আয়তন, জনসংখ্যা, ভৌগোলিক অবস্থান, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি – সবদিক থেকেই রাজ্যগুলির অবস্থা ছিল ভিন্ন ধরনের৷ এটা কোনও আশ্চর্যের ব্যাপর নয় যে, মহাত্মা গান্ধী মন্তব্য করেছিলেন, ‘রাজ্যগুলির সমস্যা এতটাই গভীর যে আপনি একমাত্র এর সমাধান করতে পারবেন৷’প্রশ্ণের  এই আপনি সম্বোধন করা হয়েছিল অন্য আর কাউকে নয়, সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেলকে, যার জন্মজয়ন্তীতে আজ আমরা তাকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছি৷

সর্দার  প্যাটেল  তার নিজস্ব ধাঁচে প্রশাসনিক দক্ষতা ও বিচক্ষণতার সঙ্গে কাজ শুরু করেন৷  সময় ছিল কম, কাজের পরিমাণ ছিল বিপুল৷ কিন্তু তিনি কোনো সাধারণ ব্যক্তি ছিলেন না৷ তিনি  সর্দার প্যাটেল৷   দেশের মাথা যাতে কোনোভাবেই  নত না হয়, সে বিষয়ে তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ৷  তিনি ও তার দলের অন্য সদ্যরা একের পর এক  রাজন্য শাসিত  দেশীয় রাজ্যের  সঙ্গে আলোচনা সুরু করেন এবং প্রতিটি রা্যজই  যে স্বাধীন ভ ারতের অংশ হবে, তা নিশ্চিত   করেন৷

সর্দার প্যাটেলের দিনরাত এক করা  পরিস্রমের ফসল বর্তমান ভারতের মানচিত্র৷  স্বাধীনতা পাবার পর পরই ভিপি মেনন সরকারি চাকরি থেকে অবসর নিতে চান৷ সর্দার প্যাটেল  তখন বলেন,  এই সময় না অবসর গ্রহণের, না বিশ্রাম নেবার৷ তিনি তার লেখা বই দ্য স্টোরি অফ দ্য ইন্টিগ্রেশন  অফ ইন্ডিয়ান  স্টেটস — এ লিখেছেন,  কিভাবে সব রাজ্যগুলিকে   একত্রিত করার কাজে সদ৪ার প্যাটেল সামনে তেখে তার দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সকলকে কেইভাবে কাজ করতে উদ্ধুদ্ধ করেছেন৷ শ্রী মেনন এটাও  লিখেছেন যে, একটা ব্যাপারে সর্দার প্যাটেলের দৃষ্টিভঙ্গী ছিপঞ্ছল একদম স্পষ্ট,  তা হল দেশের মানুষের স্বার্থই  হল প্রথম এবং প্রধান  বিষয়৷ এ ব্যাপারে আপোষের কোনো জায়গা নেই৷  ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্টের ভোরে  আমরা এক নতুন যাত্রাপথের সূচনা উদযাপন করি৷ কিন্তু  দেশ গঠনের কাজ  সম্পূর্ণ  হ তে তখনও  অনেকটাব াকি ছিল৷  স্বাধীন ভারতের প্রথম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী  হিসাবে প্রশাসনিক কাজকর্মের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেন তিনি৷  যাতে পরবর্তীতে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক  শ্রেণির মানুষের স্বার্থ রক্ষা  করা সম্ভব হয়৷  সর্দার প্যাটেলের ছিলেন একজন বিচক্ষণ প্রসাসক৷ শাসনকদ্বসাজে তার নিজের অভিজ্ঞতা, বিশে, করে  আমেদাবাদে পুরসভায় ১৯২০ স ালে তার কাজকর্ম দেশ গঠনের কাজে তাকে বিশেষ সাহায্য  করেছেন৷  আমেদাবাদে   শহর পরিষ্কার রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ কনে তিনি৷ সারা শহরে পরিষ্কার ও কার্যকরী পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা সুনিশ্চিত  করেন তিনি৷ এছাড়াও, সড়ক, বিদ্যুত এবং শিক্ষার মতো নগরোন্নয়নের পরিকাঠামোগত বিশেষ দৃষ্টি  দেন তিনি৷  আজ যে বৈচিত্রম্যয়  সমবায় ক্ষেত্রের জন্য  ভারত সুপরিচিত, তার বেশিরভাগ কৃতিত্বই সর্দার প্যাটেলের৷  আমরা যদি আমূলের ইতিহাস খঁুজতে চাই, তা হলে দেখতে পাব, এর পেছনেও  স্রেেঃয়ছন স্থানীয় মানুষ,  বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষমতায়নের জন্য তার স্বপ্ণ৷ বহু লোকের   সম্মানজনক  বসবাসের জন্য সমবায় অবসান তৈরির    পরিকল্পনাও ছিল সর্দার প্যাটেলের৷

যে দুটি  শব্দ  সর্দার প্যাটেলের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত আছে,  তা হল — আস্থা এবং সংহতি৷ তার ওপর ভারতের কৃষক সমাজের অঘাত বিশ্বাস ছিল৷ তিনি ছিলেন কিষাণপুত্র৷   বারদোলি সত্যাগ্রহ আন্দোলনের সময়ে তিনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন৷ শ্রমজীবী মানুষের কাছে তিনি ছিলেন আশার আলো৷ এমন  একজন নেতা যিনি তাদের  হয়ে কথা বলেছেন৷ বাণিজ্য মহল ও শিল্পপতিরাও সর্দার প্যাটেলের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করতেন৷ কারণ তারা মনে করতেন, ভারতের অর্থনীতি ও শিল্প জগতের উন্নয়নের জন্য দিশা নির্দেশ দেখাতে পারবেন একমাত্র সর্দার প্যাটেলরই৷

তার রাজনৈতিক  সহযোগীরাও তাকে বিশ্বাস করতেন৷ আচার্য কৃপালিনী মন্তব্য করেছিলেন, যখন তারা দেখলেন বাপুর নেতৃত্ব আর পাওয়া যাবে না, তখন তারা সর্দার প্যাটেলের  শরণাপন্ন হন৷  ১৯৪৭ সালে রাজনৈতিক  সমঝোতা যখন তুঙ্গে তখন  সরোজিনী নাইডু  তাকে অভিহিত করতেন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী মানুষ কাজের মানুষ বলে৷

সকলেরই তার ওপর আস্থা ছিল৷ তার বক্তব্য এবং তার কাজকেও সকলে বিশ্বাস করতেন৷ জাতি ধর্ম বর্ণ বয়স নির্বিশেষে সব শ্রেণীর মানুষ সর্দার প্যাটেলকে সম্মান  জানাতেন৷

এই বছরের সর্দার জয়ন্তী বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ১৩০ কোটি  ভারতবাসীর আশীর্বাদে ঐক্যের  প্রতিমূর্তির আজ উদ্বোধন করা হচ্ছে নর্মদা নদীর তীরে অবস্থিত এই ঐক্যের  প্রতিমূতি সারা  বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মূর্তি৷ ধরিত্রী পুত্র সর্দার প্যাটেল এখানে আকাশ ছোঁয়া উচ্চতায় দাড়িয়ে থেকে আমাদের দিশা নির্দেশ দেখাবেন উদ্বুদ্ধ করবেন৷

সর্দার প্যাটেলকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এ বিশাল মূর্তি  তৈরি করার কাজ দিনরাত পরিশ্রম করে  যারা বাস্তবায়িত করেছেন, তাদের সকলকেই আমি অভিনন্দন জানাই৷ আমার মনে পড়ে যাচ্ছে,  ৩১ অক্টোবর, ২০১৩ সালের  কথা, যখন আমরা এই স্বপ্ণের  প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলাম৷  এক রেকর্ড সময়ের মধ্যে প্রত্যেক ভারতীয়র গর্ব করার মতো এই বৃহৎ প্রকল্প সম্পূর্ণ হয়েছে৷  আমি আপনাদের  সকলকে ভবিষ্যতে ঐক্যের  প্রতিমূর্তি দেখে যাবার আহ্বান জানাই৷

এই ঐক্যের প্রতিমূর্তি আমাদের মাতৃভূমির আত্মিক একাত্মতা ও ভৌগোলিক অখন্ডতার পরিচায়ক৷ এই মূর্তি আমাদের একটা ক থা স্মরণ করায় যে, একা আমরা নিজেরা নিজেদের সম্মুখীন হতেও ভয় পাই৷  কিন্তু ঐক্যবদ্ধভাবে আমরা সারা বিশ্বের মোকাবিলা করতে পারি এবং উন্নতি ও গৌরবের নতুন উচচতায়  পৌঁছতে পারি৷

সর্দার প্যাটেল সাম্রাজ্যবাদের ইতিহাস মুছে দিয়ে  জাতীয়তা বোধ থেকে উদ্ভুত শক্তির সাহায্যে  ভৌগোলিক অখন্ডতা তৈরির অসম্ভব দ্রুততার সঙ্গে কাজ করে গেছেন৷  তিনি দেশকে খন্ড বিখন্ড হওয়া থেকে রক্ষা করেছেন এবং জাতীয় পরিকাঠামোর মধ্যে থেকে দেশের দুর্বলতার  অংশকেও ঐক্যবদ্ধ করেছেন৷ আজ আমরা ১৩০ কোটি ভারতবাসী  শক্তিশালী প্রগতিশীল  অন্তর্ভুক্তিমূলক এক নতুন ভারত গড়ার লক্ষ্যে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছি৷ বর্তমান সময়ে  দুর্নীতি ও  স্বজনপোষণ নীতি মুক্ত হয়ে এমনভাবে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়া  হয়, যাতে উন্নয়নের  সুফল স মাজের  প্রতিটি পিছিয়ে পড়া মানুষের কাছেও পৌঁছয়, ঠিক যেমনটা সর্দার প্যাটেল  চেয়েছিলেন৷

Releated Posts

পাঁচ বছর ধরে বিধবা ভাতা অধরা, অসুস্থ বৃদ্ধা শাশুড়ির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন পুত্রবধূর

জম্পুইজলা, ২৭ সেপ্টেম্বর:  স্বামীর মৃত্যুর পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও মেলেনি বিধবা ভাতা। বয়স ৭০ বছর, শারীরিক অসুস্থতায় জর্জরিত।…

ByByReshmi Debnath Sep 27, 2026

১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ত্রিপুরায় মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প অভিযান’: মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১৪ সেপ্টেম্বর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিন উপলক্ষে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ত্রিপুরায় শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ‘সেবা সংকল্প…

ByByTaniya Chakraborty Sep 14, 2026

সরকারি অফিস নির্মাণের জন্য চা গাছ কাটার অভিযোগ, চা বাগানে শ্রমিকদের বিক্ষোভ

আগরতলা, ৯ সেপ্টেম্বর: সরকারি অফিস নির্মাণের জন্য জমি পরিষ্কারের নামে বোল্ডোজার দিয়ে চা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র…

ByByTaniya Chakraborty Sep 9, 2026

বিলোনিয়ায় ৬৫তম জাতীয় শিক্ষক দিবস উদযাপন, সম্মানিত ২৫ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিলোনিয়া, ৫ সেপ্টেম্বর: বিদ্যালয় শিক্ষা পরিদর্শক, বিলোনিয়া এবং শিক্ষক দিবস উদযাপন কমিটির উদ্যোগে শনিবার বিলোনিয়া কলেজ স্কয়ার সংলগ্ন…

ByByNews Desk Sep 5, 2026
Scroll to Top