নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ জুলাই৷৷ চার বছর ধরে উমাকান্ত একাডেমিতে প্রতি সপ্তাহে কোন না কোনও ক্লাশ ছুটি দেওয়া হচ্ছে৷ সুকলে ব্যাঞ্চের অভাব রয়েছে, অজুহাতেই সুকল কর্তৃপক্ষ কোনও অনুমতি ছাড়াই এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত চার বছর ধরে কার্যকর হচ্ছে৷ অথচ, শিক্ষা দপ্তর কিংবা রাজ্য মন্ত্রিসভা এতদিন ধরে এ বিষয়ে অন্ধকারে ছিলো৷ শুক্রবার সুকল পরিদর্শনে গিয়ে এই ঘটনার প্রমাণ মিলতেই শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ তদানিন্তন প্রধান শিক্ষক এবং বর্তমান প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেছেন৷ পাশাপাশি এদিনই দুইশোটি বেঞ্চ ক্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন৷ আগামী সোমবার থেকে কোনও ক্লাশ যাতে বন্ধ না রাখা হয়, সেই বিষয়ে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী৷
রাজধানী আগরতলার বিদ্যালয়গুলিতে চতুর্থদিনেও শিক্ষামন্ত্রীর পরিদর্শন চলছে৷ শুক্রবার রাজন্য স্মৃতিবিজড়িত উমাকান্ত অ্যাকাডেমিতে গিয়ে বাস্তব চিত্র দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান৷ মন্ত্রী দেখেছেন, বিদ্যালয়ের বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে একটি করে ক্লাশ সারাদিনের দিনের জন্য ছুটি দেওয়া হচ্ছে৷ বেঞ্চ নেই অজুহাতে ২০১৪ সাল থেকে এই তুঘলকি সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে৷ কিন্তু এই বেঞ্চ না থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোও হয়নি৷ এই খবর জানতে পেরে শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ তীব্র উষ্মা প্রকাশ করেন৷ সুকলের বর্তমান ও প্রাক্তন প্রধানশিক্ষকের কাছ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান তিনি৷ কিন্তু তাঁরা কেউই এ ব্যাপারে কোনও যুক্তিগ্রাহ্য উত্তর দিতে পারেননি৷ ফলে সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী তাঁর দফতরের অধিকর্তাকে বর্তমান এবং প্রাক্তন প্রধান শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানোর নির্দেশ দেন৷ পাশাপাশি প্রয়োজনীয় বেঞ্চের যোগান শনিবারের মধ্যে দেবার নির্দেশ দেন সংশ্লিষ্ট আধিকারিককে৷ সোমবার থেকে কোনও অজুহাতেই যেন ক্লাশ ছুটি না দেওয়া হয় সেই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য কড়া নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ শিক্ষামন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কোনও অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না৷
এদিন তিনি আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ও পরিদর্শন করেছেন৷ সেখানেও নানা ভূল ত্রুটি ধরা পড়েছে৷ শিক্ষামন্ত্রী সকলকে ভুল ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দিয়েছেন৷ সুকল পরিদর্শন নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় মহাকরণে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, গত কয়েকদিনে রাজধানী আগরতলায় বিভিন্ন সুকলের অবস্থায় বদল ঘটছে৷ আগের চিত্র এখন দেখা যাচ্ছে না৷ সুকল পরিদর্শনের প্রভাব পড়ছে৷ তাঁর কথায়, শিক্ষক শিক্ষিকারা এখন নির্ভয়ে তাদের সমস্যাগুলি তুলে ধরছেন৷ শিক্ষক শিক্ষিকারা জানিয়েছেন, মিছিলে যেতে না হলে সুকলে আরো ভালো ভাবে পড়ানো সম্ভব৷ তাদের বক্তব্য, প্রায় সময়ই বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে তাদের সুকল চলাকালীন সময়েই যোগ দিতে হয়েছে৷ ফলে, সুকলে পঠন পাঠনে ব্যঘাত ঘটেছে৷ কিছু শিক্ষক শিক্ষিকা বদলির দাবি জানিয়েছেন৷ কারণ, দীর্ঘ দিনের অব্যবস্থায় তারা নিজেদেরকে রাখতে চাইছেন না৷ কর্মক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের পরিবেশ মানিয়ে নেওয়া যাচ্ছে না৷ তাই তাঁরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে বদলির দাবি জানিয়েছেন৷
শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য, শিক্ষক সমাজকে কোনও ভাবেই কাঠগড়ায় দাঁড় করানো উচিত হবে না৷ কারণ, গলদ রয়েছে ব্যবস্থাপনায়৷ তাঁর দাবি, সুকল গুলিতে সমস্ত অব্যবস্থা শুধরানো হবে৷ পাশাপাশি তিনি আরোও জানিয়েছেন, শনিবার থেকে সারা রাজ্যের বিভিন্ন সুকলে পরিদর্শন শুরু করবেন৷ তাঁর সাফ কথা, সংশোধনের সুযোগ দিতে চাইছি৷ তবুও হাল না ফেরলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে৷


















