মোদি না মানিক-আজ জনাদেশ ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২ মার্চ৷৷ একদিকে সম্মান রক্ষা৷ অন্যদিকে, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা৷ লড়াইটা শুধুই সেয়ানে সেয়ানে নয়৷ উনিশটা রাজ্যে ক্ষমতাসীন এবং কেন্দ্রের শাসন ক্ষমতায় থাকা দল বিজেপির বিরুদ্ধে বামফ্রন্টের লড়াই৷ ফলে, এই লড়াইয়ে স্নায়ুর চাপ অনেক বেশি৷ গোটা দেশ শুধু নয়, বিশ্বের নজর এখন ত্রিপুরার দিকে৷ কারণ, জনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে একা লড়াই করেছেন সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য তথা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার৷ তাই, এই লড়াই নিশ্চিতভাবে নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির সম্মান রক্ষার লড়াই৷ কারণ, বিগত বিধানসভা নির্বাচনগুলিকে পাঞ্জাব ছাড়া একের পর এক রাজ্য জয় করেছে বিজেপি৷ মোদির বিজয়রথ থামেনি কোথাও৷ সামনে আরো কয়েকটি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে৷ তাছাড়া আগামী বছর লোকসভা নির্বাচনও রয়েছে৷ ফলে, ত্রিপুরা জয় অনেক বেশি জরুরি বিজেপির জন্য৷ অন্যদিকে, মানিক সরকার এবং সিপিএমের জন্য এই লড়াই অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার৷ কারণ, শুধু কেরলা এবং পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অন্য কোন রাজ্যে সিপিএমের কোন অস্তিত্ব নেই৷ পশ্চিমবঙ্গে অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়েছে৷ এখন ত্রিপুরা হাতছাড়া হলে সারা দেশে অনেকটাই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে সিপিএম৷ এই লড়াইয়ের ফল ঘোষণা হবে শনিবার৷

ত্রিপুরা বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে ঠেকেছে৷ শনিবার আটটা থেকে শুরু হচ্ছে গণনা৷ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিক শ্রীরাম তরণীকান্তি জানিয়েছেন, গণনার সব প্রস্তুতি এখন চূড়ান্ত হয়ে গেছে৷ শেষ পর্যায়ে কোথাও কোনও ত্রুটি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে গুজরাট থেকে রাজ্যে এসেছেন অবজারভার ফর প্রসিজিওর৷ একই সঙ্গে এসেছেন আটজন পুলিশ পর্যবেক্ষক৷

শনিবার সকাল আটটা থেকে রাজ্যের ২০ টি স্থানে হবে ৫৯ টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট গণনা শুরু হবে৷ প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গণনা শুরু হবে৷ ৩০ মিনিট পর ইমিএমের গণনাও শুরু হবে৷ ৫৯ টি বিধানসভা আসনের ফল গণনা হবে ৫৯টি হলে৷ প্রত্যেকটা বিধানসভা আসনের যে কোনও একটি বুথের ভিভিপ্যিাট এর স্লিপ গণনা করা হবে৷ একই সাথে ওই বুথের ইভিএমের ফলও দেখা হবে৷ বিভিন্ন প্রশ্ণের উত্তরে শ্রীরাম তরণীকান্ত জানান, গণনা কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো সহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসেছেন গুজরাট ক্যাডারের সিনিয়র আইএএস অফিসার চেতন গান্ধী৷ তাঁকে অবজারভার ফর প্রসিজিওর দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন৷ রাজ্যে এসেই বিভিন্ন স্থানে গণনা কেন্দ্রগুলির পরিকাঠামোগত বিষয়গুলি তিনি ঘুরে দেখছেন৷ তরুণীকান্তি আরো জানিয়েছেন, গণনার দিন সাধারণ পর্যবেক্ষক থাকবেন ২৭ জন৷ আগে ২৫ জন সাধারণ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল কমিশন৷ কিন্তু, এখন আরো ২ জন নিয়োগ করেছে কমিশন৷

নিরাপত্তার বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে রাজ্যের আট জেলার জন্য আটজন পুলিশ পর্যবেক্ষক দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন৷ গণনার পর আরও কিছুদিন তাঁরা তাঁদের জেলায় অবস্থান করবেন৷ নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাস রুখতেই তাঁরা ফল ঘোষণার পরেও কিছুদিন থাকবেন রাজ্যে৷ তিনি জানান, গণনা কেন্দ্রগুলিতে থাকবে ত্রি-স্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা৷ প্রথম এবং তৃতীয় স্তরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী৷ মাঝের নিরাপত্তা বলয়ের দায়িত্বে থাকবে টিএসআর৷ এছাড়া, প্রত্যেকটি গণনা কেন্দ্রের জন্য থাকবেন একজন করে সাধারণ পর্যবেক্ষক৷ যদি একজন করে না-ও থাকতে পারেন তবে তাঁর অধীনে প্রত্যেকটিতে থাকবেন একজন করে মাইক্রে অবজারভার৷

উল্লেখ্য, প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে চড়িলাম কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ভোট গ্রহণ করা হয়েছে ৫৯টি বিধানসভা আসনের৷ রাজ্যের ৬০টি বিধানসভা আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২৫ লক্ষ ৭৩ হাজার ৪১৩ জন৷ একটি কেন্দ্রে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ৫৯ টি কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যা হল ২৫ লক্ষ ৩৬ হাজার ৫৮৯ জন৷ এদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ১২ লক্ষ ৮৬ হাজার ৪৫০ ও মহিলা ভোটার ১২ লক্ষ ৫০ হাজার ১২৮ জন৷ এছাড়া রয়েছেন ১১ জন তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার৷ ৫৯টি কেন্দ্রে ২৯১ জন ভোটারের ভাগ্যফল প্রকাশিত হবে শনিবার৷