কেন্দ্রের পূর্বতন সরকার নিয়ে ভোল বদল রাজ্যের মন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৭ এপ্রিল৷৷ ভোল পাল্টে যাচ্ছে রাজ্যের মন্ত্রীর৷ কেন্দ্রের বর্তমান সরকারের তুলনায় আগের সরকারগুলিই জনকল্যাণে সঠিকভাবে কাজ করেছে৷ শুক্রবার বামফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রিসভার অন্যতম সদস্য তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাদল চৌধুরী মন্তব্য করেন, আগের সরকারগুলি দেশকে পথে বসিয়েছে এমন কোন রিপোর্ট কোথাও দেখিনি৷ কৃষি দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি৷ অথচ আগের কেন্দ্রীয় সরকারগুলির জমানায় এত কৃষকের আত্মহত্যা কখনও শুনিনি৷ তিনি স্পষ্ট বলেন, স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা শুনা যায়নি৷ অথচ বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের আমলে কৃষক আত্মহত্যার ঘটনা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে৷ বর্তমান রাষ্ট্র ব্যবস্থাই মানুষের মধ্যে বিষন্নতা সৃষ্টির মূলে রয়েছে বলে তিনি জোর গলায় দাবি করেছেন৷
আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস৷ ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গঠিত হয়েছিল৷ এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে গোট পৃথিবীতে ১৯৫০ সাল থেকে ৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস পালিত হয়ে আসছে৷ বিস্ব স্বাস্থ্য দিবসের এ বছরের থিম হল ঃ- অবসাদ চলুন কথা বলি৷ আজ বিকেলে আগরতলা টাউন হলে পরিবার কল্যা্যণ ও রোগ প্রতিরোধক দপ্তর এ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে৷ প্রদীপ জ্বেলে এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে স্বাস্থ্য ও পরিাবর কল্যাণ মন্ত্রী বাদল চৌধুরী বিষন্নতা হ্রাসে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনা ও সমাজ ব্যবস্থাপনাকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন৷ তিনি বলেন, এ বিষয়ে যদি রাষ্ট্রগুলি পরস্পরকে সাহায্য করে তবে বিষন্নতা ৭০-৭৫ ভাগ হ্রাস করা যাবে৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর শক্তিধর দেশগুলি ছোট-ছোট দেশগুলির উপর অর্থনৈতিকসহ নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে৷ ফলে দেখা দেয় বেকারত্ব, অভাব-অনটন ও বিষন্নতা৷ অথচ যে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার মধ্যে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, পানীয় জল ইত্যাদির নিশ্চয়তা থাকে তবেই বিষন্নতা হ্রাস পায়৷ স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে কৃষকদের আত্মহত্যার ঘটনা দিন দিন বাড়ছে৷ বেকারত্ব বাড়ছে৷ কেন্দ্রীয় সরকার বছরে ২ কোটি বেকারের চাকুরি দেবার কথা বললেও কার্যকর করছেনা৷ তিনি বলেন, আমাদের দেশের বিষন্নতা ও অবসাদ দূরীকরণে রাষ্ট্রকে সদর্থক ভূমিকা নিতে হবে৷ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি, চিকিৎসক ও মনোবিজ্ঞানীদের এ কাজে এগিয়ে আসতে হবে৷ অনুষ্ঠানে পরিবার কল্যাণ ও রোগ প্রতিরোধক দপ্তরের অধিকর্তা ডাঃ এন ডার্লং বলেন, পৃথিবীতে বেশীর ভাগ রোগ সৃষ্টি হয় বিষন্নতা থেকে৷ আজ সারা বিশ্বে ৩২ মিলিয়ন মানুষ বিষন্নতায় ভোগেন৷ এর হাত থেকে বাঁচার মূল উপয়া হল আপনজনের সাথে মন খোলে কথা বলা৷ স্বাস্থ্য দপ্তরের অধিকর্তা ডাঃ জে কে দেববর্মন বলেন, অবসাদ এড়াতে আমাদের সকলকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে৷ এছাড়া, বক্তব্য রাখেন আগরতলা সরকারি মেডিক্যাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মমতা বর্ধন, ত্রিপুরা মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ চিন্ময় বিশ্বাস এবং জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মিশন অধিকর্তা ডাঃ শৈলেশ কুমার যাদব৷ স্বাগত ভাষণ দেন স্বাস্থ্য দপ্তরের স্টেট প্রোগ্রাম অফিসার ডাঃ জে এম ঘোষ৷ অনুষ্ঠানে ক্যুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়৷