রাষ্ট্রসঙ্ঘ, ৭ অক্টোবর (আইএএনএস): আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত ‘কমপ্রিহেনসিভ কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল টেররিজম’ (সিসিআইটি) দ্রুত গ্রহণের আহ্বান জানাল ভারত। গত বছরের পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে হামলার নেপথ্যে থাকা অপরাধী, পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদতদাতাদের আইনের আওতায় এনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনের আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত ষষ্ঠ কমিটিতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মঙ্গলবার বিপ্লব দেব বলেন, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। গত বছরের পহেলগাঁও হামলায় ২৬ জন নিরীহ সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছিলেন। পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তৈবার ছায়া সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ হামলার দায় স্বীকার করেছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিপ্লব দেব বলেন, আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের জনগণকে রক্ষা করার অধিকার ভারতের রয়েছে। ভারত পাকিস্তানকে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে এসেছে এবং পহেলগাঁও হামলার পর পাকিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটির বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রায় তিন দশক ধরে আলোচনায় আটকে থাকা সিসিআইটি দ্রুত গ্রহণ করা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন বিপ্লব দেব। ১৯৯৬ সালে ভারত এই আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী কনভেনশনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে কিছু দেশ ‘ভালো সন্ত্রাসবাদী’ ও ‘খারাপ সন্ত্রাসবাদী’র মধ্যে পার্থক্য করে এবং তথাকথিত ‘স্বাধীনতা সংগ্রামীদের’ সন্ত্রাসবাদের আওতায় না রাখার দাবি জানিয়ে আসায় চুক্তিটি এখনও গৃহীত হয়নি বলে তিনি জানান।
বিপ্লব দেব স্পষ্ট করে বলেন, ‘ভালো’ ও ‘খারাপ’ সন্ত্রাসবাদের মধ্যে কোনও পার্থক্য করা যায় না। সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার কোনও যুক্তিও গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বর্তমানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে ভারতের প্রতিনিধিদলের অন্যতম সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদীরা নিয়োগ, উগ্রপন্থায় প্ররোচনা, প্রচার, হামলার পরিকল্পনা এবং সন্ত্রাসে অর্থায়নের কাজে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় ভারতের ছয়টি অগ্রাধিকারের কথাও তুলে ধরেন বিপ্লব দেব। এগুলির মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসে অর্থায়ন বন্ধ করা, সন্ত্রাসের শিকার ব্যক্তিদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া, দেশগুলির নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, সন্ত্রাসবাদী মতাদর্শের মোকাবিলা এবং সন্ত্রাসবাদীদের পরিকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করা।



















