কলকাতা, ৬ অক্টোবর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মঙ্গলবার দাবি করেছেন, নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হাসিরানি রথের জয়ের ব্যবধান ২০১৬ সালে এই কেন্দ্র থেকে তাঁর নিজের জয়ের ব্যবধানকেও ছাপিয়ে যেতে পারে।
২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নন্দীগ্রাম থেকে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। নন্দীগ্রামে ভোট দেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “২০১৬ সালে আমি এখান থেকে ৮০ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জিতেছিলাম। আমার বিশ্বাস, নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর জয়ের ব্যবধান আমার ২০১৬ সালের জয়ের ব্যবধানকেও ছাপিয়ে যাবে।”
মুখ্যমন্ত্রী এদিন নিজের কনভয় বা নিরাপত্তারক্ষীদের ছাড়াই টোটোয় চড়ে ভোটকেন্দ্রে যান। এমনকি সাধারণ ভোটারের মতো লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দেন। কেন এমনভাবে ভোট দিতে এলেন, তার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী। কিন্তু আজ আমি নন্দীগ্রামের একজন ভোটার হিসেবে ভোট দিতে এসেছি। তাই সাধারণ মানুষের মতো আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিয়েছি এবং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে কোনও বিশেষ সুবিধা নিইনি।”
নন্দীগ্রামে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে বলেও দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতন্ত্রের উৎসবের আবহেই মানুষ ভোট দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “নন্দীগ্রামে এখনও পর্যন্ত ভোটের হার বেশ ভালো। সাধারণত কোনও উপনির্বাচনে এমনটা দেখা যায় না।”
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয়ী হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে তিনি ভবানীপুর আসনটি ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবানীপুর আসনটি ছেড়ে দিলে যাঁকে তিনি সেখানে পরাজিত করেছিলেন, তিনি উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে পারতেন। নন্দীগ্রামেও ২০২১ সালে ওই ব্যক্তিকে তিনি পরাজিত করেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে নন্দীগ্রামের সঙ্গে তাঁর আবেগের সম্পর্ক চিরকাল থাকবে বলেও জানান।
তিনি পরোক্ষভাবে তাঁর পূর্বসূরি তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা উল্লেখ করছিলেন। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে এবং ২০২৬ সালে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী।
এদিন মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি)-র প্রতিষ্ঠাতা তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের গ্রেফতারি নিয়েও মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, হুমায়ুন কবীর একজন নির্বাচিত বিধায়ক হলেও রেজিনগর উপনির্বাচনের প্রার্থী নন এবং তিনি কোনও নির্বাচনী এজেন্টও নন। ফলে ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বুথে বুথে ঘোরার অধিকার তাঁর নেই।



















