লখনউ, ৩ অক্টোবর (আইএএনএস): ২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশে বৃত্তি বণ্টনে অনিয়মের অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর দাবি, ২০১৬-১৭ সালেও তফসিলি জাতি ও উপজাতির পড়ুয়াদের বৃত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছিল।
শনিবার লখনউয়ের লোকভবন অডিটোরিয়ামে বৃত্তি ও ফি পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালের আগে বকেয়া থাকা বৃত্তির অর্থ তাঁর সরকার ক্ষমতায় আসার পর পড়ুয়াদের দেওয়া হয়েছে।
যোগীর অভিযোগ, অতীতে আমলাতান্ত্রিক কারসাজির মাধ্যমে বৃত্তির অর্থ সরিয়ে নেওয়া হতো। বর্তমানে ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগ্য পড়ুয়াদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে এক ক্লিকের মাধ্যমে ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ৫৫৯ জন পড়ুয়ার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৪৮ কোটিরও বেশি টাকা পাঠানো হয়। মুখ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরে ৭০ লক্ষ পড়ুয়াকে বৃত্তির আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। গত বছর ৬৯ লক্ষ পড়ুয়াকে ৬,২০০ কোটি টাকার বৃত্তি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ২০১৭ সালের আগে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ২,৯০০ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, গত বছর আবেদন বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে প্রায় চার লক্ষ পড়ুয়া বৃত্তি পাননি। বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে তাঁদেরও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আগামী ২৬ জানুয়ারির মধ্যে সব যোগ্য পড়ুয়ার কাছে বৃত্তি পৌঁছে দেওয়ার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দেন তিনি।
শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে যোগী বলেন, অপারেশন কায়াকল্পের মাধ্যমে সরকারি স্কুলগুলিতে শৌচাগার, পানীয় জল, আসবাব, স্মার্ট ক্লাসরুম ও ডিজিটাল লাইব্রেরির মতো পরিকাঠামো উন্নত করা হয়েছে। বেসিক এডুকেশন কাউন্সিলের অধীনে পড়া ১.৬ কোটি শিশুর ইউনিফর্ম, স্কুল ব্যাগ, বই, জুতো, মোজা ও সোয়েটারের জন্য অর্থ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ১৮টি ডিভিশনেই অটল আবাসিক স্কুল চালু রয়েছে, যেখানে শ্রমজীবী ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের প্রায় ১৮ হাজার শিশু পড়াশোনা করছে। ৭৪৬টি উন্নয়ন ব্লকে কস্তুরবা গান্ধী বালিকা বিদ্যালয় চলছে। প্রজেক্ট অলংকারের আওতায় ২,৩০০-র বেশি স্কুলে পরিকাঠামো ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।
কর্মসংস্থানের প্রসঙ্গে যোগী জানান, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ১০ লক্ষ যুবক-যুবতীকে সরকারি চাকরি দেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসে আরও এক লক্ষ যুবককে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কোচিং কর্মসূচি চলছে এবং দুই কোটি যুবককে ট্যাবলেট দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ইতিমধ্যেই ৬০ লক্ষ জনকে ট্যাবলেট দেওয়া হয়েছে। আগামী মাসে মেধাবী ছাত্রীদের ৫০ হাজার স্কুটি দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।



















