নয়াদিল্লি, ২ অক্টোবর (আইএএনএস) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ফোন পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন ভারতীয় ফ্লাইদুবাই ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তিনি বলেন, মোদিই তাঁর সবচেয়ে বড় আদর্শ এবং তিনি সবসময় তাঁকে অনুসরণ করে এসেছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত পাইলটকে শুক্রবার ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি। তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
ভিডিও কলে ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানে থাকা ১৭০-এর বেশি যাত্রীর জীবন রক্ষা পেয়েছে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের সন্ত্রাসবাদী হামলাও প্রতিহত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর ফোন পেয়ে অত্যন্ত গর্বিত বলে জানান স্মিত। তিনি বলেন, কখনও ভাবেননি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন। কঠিন পরিস্থিতিতে পড়লে তিনি হনুমান চালিসা পাঠ করেন বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানান স্মিত।
ককপিটের ভিতরে ছুরিকাহত হয়ে যাত্রীদের উদ্ধারের জন্য যখন তিনি লড়াই করছিলেন, সেই কঠিন মুহূর্তেও তিনি হনুমান চালিসা পাঠ করেছিলেন বলে জানান ভারতীয় পাইলট।
প্রধানমন্ত্রী স্মিতের মা গীতা বেনের সঙ্গেও কথা বলেন। ছেলের সাহস ও মূল্যবোধের প্রশংসা করার পাশাপাশি তাঁর লালন-পালনে ভগবদ্গীতার শিক্ষা ও মূল্যবোধের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্মিত ও তাঁর পরিবারকে চিকিৎসা-সহ সমস্ত ধরনের সম্ভাব্য সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
ক্যাপ্টেন স্মিতের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিরও প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। আকাশপথে তাঁর এই সাহসিকতার ঘটনা ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে মাঝআকাশে সহ-পাইলটের হামলার শিকার হন ক্যাপ্টেন স্মিত। সহ-পাইলট তাঁকে ককপিটের ভিতরে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত ও কার্যত ভেঙে পড়া অবস্থাতেও স্মিত হাল ছাড়েননি। তিনি ককপিটের দরজার ল্যাচ খুলে দেন। এর ফলে যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারী সহ-পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
ক্যাপ্টেন স্মিতের উপস্থিত বুদ্ধি, সাহস ও তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের ফলে বিমানে থাকা ১৭০-এর বেশি মানুষের জীবন রক্ষা পায়।


















