নয়াদিল্লি, ১ অক্টোবর (আইএএনএস): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বৃহস্পতিবার বলেছেন, ভারত এমন একটি সময় থেকে বেরিয়ে এসেছে যখন সরকারকে নাগরিকদের একমাত্র প্রদানকারী ও অভিভাবক হিসেবে দেখা হতো। এখন দেশ ‘নাগরিক দেবো ভব’ নীতির যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে প্রত্যেক নাগরিককে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন (ইউপিএসসি)-এর শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী ২০-২৫ বছর ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘বিকশিত ভারত’ গঠনে ইউপিএসসি এবং রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনগুলির মতো প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
তিনি বলেন, সরকারি পরিষেবায় নিয়োগের ক্ষেত্রে দুটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে—‘নেশন ফার্স্ট’ এবং ‘সিটিজেন ফার্স্ট’। এই নীতির ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করা হলে দেশের লক্ষ্য পূরণ করা আরও সহজ হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৪৭ সালের ভারত বর্তমান ভারতের তুলনায় অনেকটাই আলাদা হবে। দেশে নগরায়ণ আরও বাড়বে, গ্রাম ও শহরের মধ্যে ব্যবধান কমবে এবং বিশেষ করে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশা আরও বৃদ্ধি পাবে। প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারি পরিষেবাকেও দ্রুততর হতে হবে।
তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যখন মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার নথি প্রক্রিয়াকরণ করতে পারে এবং সরকারের হাতে রিয়েল-টাইম তথ্য থাকে, তখন নাগরিকরাও দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করেন। তাই ভবিষ্যতের প্রয়োজন অনুযায়ী সিভিল সার্ভিসে নিয়োগের মানদণ্ড ও প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
মোদী আরও বলেন, তরুণদের শুধু সরকারি পদে আকৃষ্ট না করে জনসেবার প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। প্রশিক্ষণরত আধিকারিকদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সময় কেন এই পেশা বেছে নিয়েছেন, তা লিখে রাখতে তিনি তাঁদের পরামর্শ দেন। সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ বাড়লে ওই লেখা তাঁদের মূল উদ্দেশ্য মনে করিয়ে দেবে এবং আত্মমূল্যায়নের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া বা ‘এক্সামিনেশন সাইকেল’ আরও সংক্ষিপ্ত করার বিষয়েও কাজ করা প্রয়োজন। ইতিমধ্যে এই প্রক্রিয়া ছোট করার জন্য কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।



















