সোনামুড়া, ২৯ সেপ্টেম্বর: দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষা এবং কথিত ‘ভোট চুরি’র প্রতিবাদে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের গ্রেপ্তার ও পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার সোনামুড়ায় বিক্ষোভ মিছিল করল সিপাহিজলা জেলা কংগ্রেস। জেলা কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা অংশ নেন।
এদিন জেলা কংগ্রেস ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়ে সোনামুড়া শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে। মিছিল থেকে ‘ভোট চোর, গদি চোর’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। পরে মিছিলটি সোনামুড়া মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছালে পুলিশি ব্যারিকেডের মুখোমুখি হন বিক্ষোভকারীরা।
কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা পুলিশের পরপর তিনটি ব্যারিকেড ভেঙে মহকুমা শাসকের কার্যালয় চত্বরে প্রবেশের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। এরপর সোনামুড়া নেতাজি চৌমুহনী এলাকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কুশপুতুল দাহ করেন বিক্ষোভকারীরা। পরে পুলিশ বেশ কয়েকজন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থককে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের সোনামুড়া টাউন হলে অস্থায়ী জেলে রাখা হয় বলে জানা গেছে।
কর্মসূচি সম্পর্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য এনএসইউআই সভাপতি আমির হোসেন অভিযোগ করেন, দেশে গণতন্ত্রের পরিস্থিতি সংকটজনক। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করছে, যা দেশের গণতন্ত্র ও সংবিধানের জন্য বিপজ্জনক। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ ও গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত কংগ্রেসের আন্দোলন চলবে বলেও তিনি জানান।
সিপাহিজলা জেলা কংগ্রেস সভাপতি রোশন আলী বলেন, এদিনের কর্মসূচিতে জেলা কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। আগামী দিনে সোনামুড়ায় কংগ্রেস আরও শক্তিশালী হবে এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর আরও বক্তব্য, এদিন কংগ্রেস কর্মীরা তিনটি পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙেও আন্দোলন চালিয়ে যান।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন জেলা কংগ্রেস সভাপতি দীপক চক্রবর্তী, জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হাবিল মিয়া সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা।



















