কোহিমা, ২৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নাগাল্যান্ডের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি আত্মনির্ভর নাগাল্যান্ড গড়ে তুলতে যুবসমাজকে দক্ষতা অর্জন, উদ্যোগী মনোভাব এবং সৃজনশীলতার মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানালেন রাজ্যপাল নন্দ কিশোর যাদব।
মঙ্গলবার কোহিমার ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে আয়োজিত স্টেট লেভেল ইয়ুথ ফেস্টিভ্যাল ২০২৬-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজ্যপাল বলেন, লোকগান, লোকনৃত্য এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলার মধ্যে একটি রাজ্যের পরিচয়, ইতিহাস ও সম্মিলিত ঐতিহ্য প্রতিফলিত হয়। যুবসমাজকে নিজেদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে এবং অন্যদের সংস্কৃতির প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানান তিনি।
‘ইয়ুথ, স্কিলস অ্যান্ড এ সেল্ফ-রিলায়েন্ট নাগাল্যান্ড’ এবারের যুব উৎসবের মূল ভাবনা। রাজ্যপাল বলেন, প্রতিভার সঙ্গে জ্ঞান, ব্যবহারিক দক্ষতা, শৃঙ্খলা এবং নিয়মিত শেখার মানসিকতার সমন্বয় প্রয়োজন। সরকারি চাকরি প্রত্যেক যুবকের কর্মসংস্থানের সমস্ত প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুবকদের ডিজিটাল প্রযুক্তি, উদ্যোগপতি হওয়া, কৃষি, পর্যটন, হস্তশিল্প, সৃজনশীল শিল্প এবং নতুন উদীয়মান ক্ষেত্রে সুযোগ খোঁজার পরামর্শ দেন তিনি। দক্ষতা, অধ্যবসায়, আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং উদ্যোগী মনোভাবের মাধ্যমে নাগাল্যান্ডের যুবসমাজ রাজ্যের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে জানান রাজ্যপাল।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলার যুবকদের প্রতিভা ও পরিশ্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, যুব উৎসব শুধুমাত্র প্রতিযোগিতার মঞ্চ নয়। এটি শেখা, মতবিনিময়, সৃজনশীলতা এবং ব্যক্তিগত বিকাশের সুযোগও তৈরি করে। বিভিন্ন জেলার অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে তোলা এবং একে অপরের সংস্কৃতি ও প্রতিভাকে সম্মান করার আহ্বান জানান তিনি।
‘স্কিল-বেসড ইকোনমিক সাসটেন্যান্স ইনিশিয়েটিভ অব আইজি অ্যাকাডেমি স্টুডেন্টস’-এরও প্রশংসা করেন রাজ্যপাল। বিশেষ করে স্টেট স্পোর্টস অ্যাকাডেমির পড়ুয়াদের হাতে তৈরি পণ্য ও সৃজনশীল কাজের প্রদর্শনীর কথা উল্লেখ করেন তিনি।
খেলাধুলা শৃঙ্খলা, দলগত কাজ, অধ্যবসায় ও নেতৃত্বের গুণ শেখায় উল্লেখ করে রাজ্যপাল খেলোয়াড়দের মাঠের বাইরেও অতিরিক্ত দক্ষতা অর্জনের পরামর্শ দেন। ডিক্লেমেশন, কবিতা লেখা ও ছবি আঁকার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া যুবকদের বেশি করে পড়াশোনা, কৌতূহলী থাকা, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের পরামর্শও দেন তিনি।
ভুয়ো তথ্যের সঙ্গে নির্ভরযোগ্য তথ্যের পার্থক্য বোঝার ওপর গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যপাল বলেন, যুবকদের সচেতন, দায়িত্বশীল এবং সক্রিয় নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। ‘বিকশিত ভারত @২০৪৭’-এর লক্ষ্যে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে যুবসমাজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নাগাল্যান্ডের দক্ষ যুবসমাজ, সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শক্তিশালী সামাজিক বন্ধনের কথা তুলে ধরে পর্যটন, কৃষি, উদ্যোগ, খেলাধুলা ও সৃজনশীল শিল্পে নতুন সম্ভাবনা খোঁজার আহ্বান জানান রাজ্যপাল। শিক্ষা, দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে নাগাল্যান্ডের যুবসমাজ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।



















