নয়াদিল্লি, ২৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদ থেকে সরানোর দাবি জানালেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, সিইসি কেন্দ্রীয় সরকারের ‘হাতের পুতুলে’ পরিণত হয়েছেন।
খার্গে বলেন, জ্ঞানেশ কুমারের আর ওই পদে থাকার কোনও অধিকার নেই এবং তাঁকে অবিলম্বে অপসারণ করা উচিত। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকারকে খর্ব করা হচ্ছে।
কংগ্রেস সভাপতির দাবি, গত ১২ বছর ধরে মোদি সরকারের আমলে দেশের গণতন্ত্রের ভিতকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে ভোটার তালিকা থেকে মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
খার্গে বলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় কংগ্রেস যেমন গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব নিয়েছিল, আজও দলকে সেই দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। তিনি ভোটাধিকারকে গণতন্ত্রের অন্যতম মৌলিক ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে ভোটারদের নাম ইচ্ছামতো বাদ দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর ভূমিকার প্রশংসাও করেন খার্গে। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী যে বিষয়গুলি তুলে ধরেছেন—একই ভোটারের একাধিক নাম, সন্দেহজনক ঠিকানা, একই ঠিকানায় বিপুল সংখ্যক ভোটার এবং ফর্ম-৬ সংক্রান্ত বিষয়—সেগুলি নিয়ে নির্বাচন কমিশন গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নিলে পরিস্থিতি অন্যরকম হতে পারত।
খার্গে আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের দুই কমিশনার সিইসির কিছু পদক্ষেপকে ‘স্বেচ্ছাচারী ও অন্যায্য’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর প্রশ্ন, এসআইআর সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত কীভাবে নেওয়া হল এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ পোর্টাল থেকে দুই নির্বাচন কমিশনারকে কেন বাদ দেওয়া হয়েছিল।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে কংগ্রেস পাঁচটি দাবি জানিয়েছে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ভোটার তালিকা পরিবর্তনের সম্পূর্ণ তথ্য প্রকাশ, বাদ পড়া ভোটারদের বিস্তারিত তথ্য ও আপিলের সুযোগ, রাজনৈতিক দলগুলিকে সময়মতো ভোটার তালিকা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য সরবরাহ, গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে স্বাধীন ও দ্রুত তদন্ত এবং নির্বাচন প্রক্রিয়া সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সিদ্ধান্তে আরও স্বচ্ছতা—এই দাবিগুলি জানানো হয়েছে।
খার্গে বলেন, বিষয়টি কোনও একটি নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের লড়াই নয়। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন আসবে-যাবে, সরকার বদলাবে, কিন্তু গণতন্ত্র ও সংবিধান স্থায়ী। প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের ভোট সুরক্ষিত রাখা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ার প্রতি মানুষের আস্থা বজায় রাখা জরুরি।
তিনি কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, নির্বাচনের নিরপেক্ষতা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান।



















