ভোপাল, ২৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মধ্যপ্রদেশে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর বিরুদ্ধে সোমবার ভোপালে বিক্ষোভে নামল কংগ্রেস। হাজার হাজার দলীয় কর্মী ও নেতার মিছিল নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতরের দিকে এগিয়ে যায়। এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রচার শুরু করেছে কংগ্রেস।
মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জিতু পাটওয়ারির নেতৃত্বে প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির (পিসিসি) দফতর থেকে আরেরা হিলসের সিইও দফতরের উদ্দেশে মিছিল শুরু হয়। ভোপাল এবং রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বিধায়ক, প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতারাও বিক্ষোভে অংশ নেন।
কংগ্রেসের অভিযোগ, এসআইআরের পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে ৩৪,২৫,০৭৮টি নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। দলটি নির্বাচন কমিশনের কাছে বাদ পড়া ভোটারদের নামের বিধানসভা কেন্দ্রভিত্তিক ও জেলাভিত্তিক তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে।
কংগ্রেসের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশোধনের আগে মধ্যপ্রদেশে মোট ভোটার ছিলেন ৫,৭৪,০৬,১৪৩ জন। দলটির দাবি, খসড়া তালিকা তৈরির সময় ৪২,৭৪,১৬০টি নাম বাদ পড়ে এবং ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় ভোটারের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫,৩৯,৮১,০৬৫।
বিক্ষোভে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্ককে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের বৃহত্তর প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করেন। তিনি বলেন, সফল গণতন্ত্রের জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। নির্বাচন কমিশন বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
দিগ্বিজয় সিংয়ের দাবি, সারা দেশে এসআইআরের সময় ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ভোটার তালিকায় নাম সংযোজন ও বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের অ্যাপ ব্যবহারের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
কংগ্রেস ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নামের পাশাপাশি সংশোধন প্রক্রিয়ায় জমা পড়া দাবি ও আপত্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছে। কতজন সংখ্যালঘু, তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, সেই তথ্যও চেয়েছে দলটি।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে জবাবদিহির দাবিও জানিয়েছে কংগ্রেস। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ভোটার পরিষেবা পোর্টালের মাধ্যমে এসআইআর সংক্রান্ত ভোটার তালিকার তথ্য এবং নাম অনুসন্ধানের সুবিধা দিয়েছে।
কংগ্রেস জানিয়েছে, ভোপালের এই বিক্ষোভের পর ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে জেলাস্তরেও আরও কর্মসূচি নেওয়া হবে।



















