শিলং, ২৮ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): মেঘালয়ের দক্ষিণ গারো হিলস জেলার রাংডোকরাম গ্রামে নির্মীয়মাণ একটি ভূগর্ভস্থ সেপটিক ট্যাঙ্কে কাজ করার সময় সন্দেহভাজন বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসমের চার নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার আধিকারিকরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
ঘটনাটি রাংডোকরাম গ্রামের সেবাস্টিয়ান চ সাংমার বাড়িতে ঘটে। সেখানে সদ্য নির্মিত একটি সেপটিক ট্যাঙ্কের নির্মাণ সংক্রান্ত কাজে ওই শ্রমিকরা নিযুক্ত ছিলেন।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই শ্রমিক ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কটির ঢাকনা খোলার চেষ্টা করলে ভিতরে জমে থাকা ধোঁয়া বা গ্যাসের সংস্পর্শে এসে আচমকাই অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁদের সাহায্য করতে আরও দুই শ্রমিক ছুটে গেলে তাঁরাও সন্দেহভাজন বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন।
খবর পেয়ে পুলিশ এবং ফায়ার অ্যান্ড ইমার্জেন্সি সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তবে ভূগর্ভস্থ ট্যাঙ্কটির অবস্থান এবং অত্যন্ত সংকীর্ণ প্রবেশপথের কারণে উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারী দল ট্যাঙ্কে পৌঁছতে আশপাশের মাটি খুঁড়ে পথ তৈরি করে।
উদ্ধারকাজ চলাকালীন দুই দমকলকর্মীও গ্যাসের সংস্পর্শে এসে অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পরে চার শ্রমিককেই মৃত ঘোষণা করা হয়। মৃতরা হলেন মফিদুর রহমান (৩৪), মঙ্কাচরের দিয়ারা, পুরানদিয়ারা এলাকার বাসিন্দা; আজিয়ের রহমান (৪১), চেঙ্গুরচর, পুরানদিয়ারা; ইসমাইল হুসেন (২০), চোমরাশালি, কালাপানি এবং রাকিব হুসেন (২২), বোয়ালিয়া, রাধামাধব হাটের বাসিন্দা। চারজনই অসমের দক্ষিণ সালমারা-মানকাচর জেলার বাসিন্দা।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকা অথবা সঠিক গ্যাস নির্গমন ব্যবস্থা কিংবা সোক পিট না থাকার কারণে সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতরে বিপজ্জনক গ্যাস জমে থাকতে পারে।
সেপটিক ট্যাঙ্কে হাইড্রোজেন সালফাইড এবং মিথেনের মতো গ্যাস তৈরি হতে পারে, যা উচ্চ ঘনত্বে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তবে ঠিক কোন গ্যাসের কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বা শ্রমিকদের মৃত্যুর সঠিক কারণ কী, তা এখনও নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে। পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল, গ্যাস শনাক্ত করার সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া ভূগর্ভস্থ বা আবদ্ধ জায়গায় প্রবেশের বিপদও এই দুর্ঘটনা সামনে এনেছে।
— আইএএনএস



















