নয়াদিল্লি, ২৭ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। সমাজে রাহুল গান্ধীর বক্তব্য প্রচার করা হলে তা ‘‘ভুল বার্তা’’ দেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। বিজেপির আরও কয়েকজন নেতাও রাহুলের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।
বিজেপি নেতা নরোত্তম মিশ্র রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে বলেন, তাঁর বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখার চেষ্টা। তিনি দাবি করেন, রাহুল গান্ধী এ পর্যন্ত বহু নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন।
রাহুল গান্ধীর ইভিএম, ভোট চুরি এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে নরোত্তম মিশ্র বলেন, একদিকে ইভিএম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, অন্যদিকে ভোট চুরির অভিযোগ করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের মাধ্যমে ইভিএম নিয়ে আগের অভিযোগের সঙ্গে বর্তমান অভিযোগের মধ্যে অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাহুল গান্ধী প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছিলেন। তিনি ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং কয়েকটি বিধানসভা নির্বাচনে বড় আকারের কারচুপির অভিযোগও করেন।
ছত্তীসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাইও রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস এবং রাহুল গান্ধী দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছেন।
মুখ্যমন্ত্রী সাই দাবি করেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য নেই বলেই প্রমাণ করেছে। তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত সর্বসম্মত ছিল।
বিজেপির জাতীয় মিডিয়া ইনচার্জ আশিস উষা আগরওয়ালও রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল গান্ধী দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন।
রাহুল গান্ধী এর আগে দাবি করেছিলেন, ২০২৪ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি হয়েছে এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কথিত ‘ভোট চুরি’র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগগুলির সঙ্গে একমত নয়।



















