আগরতলা, ২৬ সেপ্টেম্বর: নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং আসন্ন ভিলেজ কাউন্সিল, পৌরসভা ও বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হল ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র প্রবীর চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার নির্বাচন কমিশনসহ দেশের বিভিন্ন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি ভোটার তালিকায় কারচুপি এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি আসন্ন এসআইআর প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানান।
এক বিবৃতিতে প্রবীর চক্রবর্তী অভিযোগ করেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে কেন্দ্রের সরকার বিভিন্ন জনস্বার্থবাহী আইন বাতিল করার পাশাপাশি এমন কিছু আইন প্রণয়ন করেছে, যার ফলে গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। তাঁর দাবি, দেশের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের কমিটি থেকে তৎকালীন প্রধান বিচারপতির প্রতিনিধিত্ব বাদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনারদের আইনি সুরক্ষা সংক্রান্ত বিধান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
প্রবীর চক্রবর্তীর অভিযোগ, ২০১৯ ও ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনে ভোটার তালিকা, ইভিএম, ভোট গণনা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে বারবার তোলা হয়েছে। তবে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং আদালতের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রদেশ কংগ্রেসের মুখপাত্র। তাঁর দাবি, নিয়োগের আগে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী আপত্তি জানালেও তা উপেক্ষা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনারের সাম্প্রতিক অবস্থান এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি তাঁদের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, “সংবিধানের প্রতি নিষ্ঠাবান নির্বাচন কমিশনারদের ভূমিকার জন্য আমরা প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁদের অভিনন্দন জানাচ্ছি।”
বিবৃতিতে তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশের সম্পদ ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও শিল্পপতির নাম জড়িয়ে বিরোধীরা অভিযোগ তুলে আসছে। তবে এসব অভিযোগকে তিনি রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই উপস্থাপন করেন এবং দাবি করেন, এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
আসন্ন ভিলেজ কাউন্সিল নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রবীর চক্রবর্তী বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে স্বাধীনভাবে মানুষের মতামত প্রতিফলিত হওয়া নিয়ে আশঙ্কা রয়েছে। প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের চেষ্টা হলে তার বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে আসন্ন এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে একাধিক দাবি জানিয়েছে প্রদেশ কংগ্রেস। দলের বক্তব্য, ত্রিপুরার সমস্ত বৈধ ভারতীয় নাগরিকের নাম ভোটার তালিকায় নিশ্চিত করতে হবে এবং নতুন যোগ্য ভোটারদের নামও সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
প্রবীর চক্রবর্তীর অভিযোগ, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি কর্মীদের একটি বড় অংশের নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের কাছে খবর রয়েছে। পাশাপাশি ত্রিপুরার বিভিন্ন এলাকার ভোটারদের নাম একাধিক বুথে অন্তর্ভুক্ত করা এবং বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে বিবৃতিতে নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে আবেদন জানান, এসআইআর প্রক্রিয়ায় যেন কোনও বৈধ ভোটারের নাম বাদ না যায় এবং কোনও অযোগ্য ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত না হয়। অভিযোগ অনুযায়ী অনিয়ম রোধ করা সম্ভব না হলে প্রয়োজনে এসআইআর প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ব্যবস্থার দাবিও জানান তিনি।
প্রবীর চক্রচক্রবর্তী বলেন, “ত্রিপুরার মানুষকে যারা ভালোবাসেন এবং রাজ্যের কল্যাণ চান, প্রশাসনের ভিতরে থাকা সেই সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে নিজেদের বিবেক ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করতে হবে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটার তালিকা তৈরির উদ্যোগে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ পাশে থাকবেন।”
আগামী ভিলেজ কাউন্সিল, পৌরসভা ও বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েই এদিনের বিবৃতি দিয়েছে ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস।


















