আগরতলা, ২৬ সেপ্টেম্বর: নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আজ আগরতলায় বিক্ষোভ মিছিল ও সভা করল বামফ্রন্ট। এদিন সিপিআইএম পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কমিটির কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিলটি শুরু হয়। শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে মিছিলটি প্যারাডাইস চৌমুহনি এলাকায় পৌঁছায়। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় বিক্ষোভ সভা।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী এবং সিআইটিইউ-র রাজ্য সভাপতি মানিক দে-সহ বাম নেতৃত্ব ও কর্মী-সমর্থকরা।
বিক্ষোভ সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জিতেন্দ্র চৌধুরী দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে সরব হন। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশনের দুই নির্বাচন কমিশনার সুধা ও জোশী অভিযোগ করেছেন যে তাঁদের অন্ধকারে রেখে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা, এসআইআর-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ও নতুন নাম যুক্ত করার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়েও তাঁরা আপত্তি জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর দাবি, গত ১০ মাসে কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন ওই দুই নির্বাচন কমিশনার। এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরই বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি প্রতিবাদে সরব হয়েছে বলে জানান তিনি।
বিরোধী দলনেতা অভিযোগ করেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার দেশের গণতন্ত্র, সংবিধান ও মানুষের ভোটাধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাঁর বক্তব্য, এর বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলার পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিও জানানো হচ্ছে।
ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন জিতেন্দ্র চৌধুরী। তাঁদের দাবি, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, তাঁদের অবিলম্বে পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
এদিনের সভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ড. মানিক সাহাকেও নিশানা করেন বিরোধী দলনেতা। তিনি বলেন, শনিবার ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের জোরদার প্রচারপর্ব শেষ হয়েছে। তাঁর দাবি, এই নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী একটি জনসভাতেও যাওয়ার সুযোগ পাননি।
জিতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, ভিলেজ কমিটি নির্বাচনের প্রচারে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখা না যাওয়ায় তিনি এখন উদ্বিগ্ন এবং কবে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়তে হবে, সেই দিন গুনছেন। সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে ‘আবোল-তাবোল’ কথা বলছেন বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।
ভিলেজ কমিটি নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই এদিনের বামফ্রন্টের কর্মসূচিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানানো হয়।


















