নয়াদিল্লি, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই)-এর সাম্প্রতিক রদবদলে কট্টরপন্থীদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়েছে বলে দাবি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির। গোয়েন্দা সূত্রের মতে, জম্মু-কাশ্মীরে ফের সন্ত্রাসবাদকে উসকে দিতে আইএসআই ২০১৬ সালে নিহত হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানির মডেলের মতো কৌশল গ্রহণের কথা বিবেচনা করছে।
গোয়েন্দা ইনপুট অনুযায়ী, বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর তৈরি করা প্রক্সি সংগঠনগুলির মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরে প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত সাফল্য না পাওয়ায় আইএসআই তার কৌশল নতুন করে পর্যালোচনা করছে। ওয়ানির মতো এমন একজন স্থানীয় ও প্রভাবশালী মুখ তৈরি করার চেষ্টা হতে পারে, যিনি কাশ্মীরের যুবকদের সন্ত্রাসবাদে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবেন বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি।
ওয়ানির মৃত্যুর পর আইএসআই দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) এবং পিপলস অ্যান্টি ফ্যাসিস্ট ফ্রন্ট (পিএএফএফ)-এর মতো প্রক্সি সংগঠনকে সামনে আনে বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির দাবি। তাদের মতে, টিআরএফ আসলে লস্কর-ই-তইবার এবং পিএএফএফ জইশ-ই-মহম্মদের প্রক্সি সংগঠন।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই কৌশলের অংশ হিসেবে সন্ত্রাসী সংগঠনগুলির নামকরণেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল। আরবি বা ধর্মীয় নামের পরিবর্তে টিআরএফ ও পিএএফএফ-এর মতো নাম ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের ‘স্বাধীনতা সংগ্রামী’ এবং ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ‘দখলদার বাহিনী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়।
এক গোয়েন্দা আধিকারিকের দাবি, ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের পর জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক বড় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটনের প্রসার এবং তার ফলে স্থানীয় মানুষের আয় বৃদ্ধি পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছে বলেও দাবি করেন ওই আধিকারিক।
ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর এক আধিকারিকের দাবি, ওয়ানির মৃত্যুর পর যে কৌশল নেওয়া হয়েছিল, তা বর্তমানে আর কার্যকর হচ্ছে না। তাঁর বক্তব্য, টিআরএফ বা পিএএফএফ—উভয়ের ক্ষেত্রেই পাকিস্তানি যোগ এবং লস্কর-ই-তইবা ও জইশ-ই-মহম্মদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে।
নতুন আইএসআই নেতৃত্ব জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে কৌশলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। ওয়ানি-পর্বে স্থানীয় যুবকদের হিজবুল মুজাহিদিনে যোগদানের প্রবণতাকে বিশেষভাবে সফল নিয়োগ মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে ওই সূত্রের বক্তব্য। বর্তমানে পাকিস্তানি জঙ্গিদের উপস্থিতি কমিয়ে সম্পূর্ণ স্থানীয় কাশ্মীরি সদস্যদের নিয়ে একটি সন্ত্রাসী মডেল গড়ে তোলার চেষ্টা হতে পারে বলেও দাবি করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সামাজিক মাধ্যমে ওয়ানির ব্যাপক উপস্থিতি যুবকদের প্রভাবিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল। তাঁর ছবি ও বার্তা ব্যবহার করে যুবকদের সংগঠিত করা এবং বিক্ষোভ ও পাথর ছোড়ার মতো ঘটনায় তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা হয়েছিল বলেও দাবি করা হয়েছে।



















