কলকাতা, ২৬ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পরিষেবা কোটায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া জুনিয়র চিকিৎসকদের মধ্যে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করেও সুবিধা নেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। অভিযোগ, আগের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে এই ধরনের অনিয়ম ঘটেছিল।
স্বাস্থ্য দফতরের এক অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে, পরিষেবা কোটায় অনিয়মের ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রভাবশালী আধিকারিকদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহায়তা ছাড়া এই ধরনের অনিয়ম সম্ভব ছিল না বলে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
স্বাস্থ্য দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, পরিষেবা কোটায় রাজ্যের সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেতে হলে জুনিয়র চিকিৎসকদের বাধ্যতামূলকভাবে রাজ্যের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় তিন বছর পরিষেবা দিতে হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য দফতরের গঠিত সাম্প্রতিক তদন্ত কমিটি এমন কয়েকটি ঘটনার সন্ধান পেয়েছে, যেখানে আগের শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কিছু জুনিয়র চিকিৎসক প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় তিন বছর পরিষেবা না দিয়েও পরিষেবা কোটায় উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সূত্রের দাবি, তদন্ত কমিটি স্বাস্থ্য দফতরের কয়েকজন প্রাক্তন প্রভাবশালী আধিকারিকের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছে। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া পরিষেবা কোটার ব্যবহারে এই অনিয়ম সম্ভব হত না বলে কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এবার সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য দফতরের ওই আধিকারিক জানান, চার সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যেই তাদের রিপোর্ট জমা দিয়েছে। এখন পরিষেবা কোটার সুযোগ নেওয়া জুনিয়র চিকিৎসক এবং তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ ওঠা দফতরের আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্বাস্থ্য মন্ত্রী এবং দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা সিদ্ধান্ত নেবেন।
রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী চিকিৎসক শরদ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, তিনি এখনও তদন্ত কমিটির রিপোর্টটি খতিয়ে দেখেননি। রিপোর্টটি পড়ে দেখার পর পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সম্পর্কে জানানো হবে বলে তিনি জানান।
জানা গিয়েছে, তদন্ত কমিটির চিহ্নিত চিকিৎসকদের মধ্যে একজন হলেন অভিক দে। ২০২৪ সালের আগস্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসককে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই সময় তাঁর নামও সামনে এসেছিল।
–আইএএনএস



















