লখনউ, ২৫ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠক করলেন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য। নয়াদিল্লিতে শাহের বাসভবনে এই বৈঠকে নির্বাচনী প্রস্তুতি, সাংগঠনিক কৌশল এবং সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকের পর মৌর্য জানান, ২০২৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং উত্তরপ্রদেশে পরপর তৃতীয়বার সরকার গঠনের লক্ষ্যে দলের সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, দলের কর্মীরা রাজ্যজুড়ে বিশেষ জনসংযোগ অভিযান চালিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প এবং সাফল্যের কথা মানুষের বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেবেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলি সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে কী কী সুবিধা পেয়েছে, তা তুলে ধরা হবে।
মৌর্য জানান, ‘বিকশিত ভারত-২০৪৭’-এর লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতি এবং কর্মসূচিগুলিও জনসংযোগ অভিযানের মাধ্যমে মানুষের কাছে তুলে ধরা হবে।
নির্বাচনের আগে বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো আরও সক্রিয় ও শক্তিশালী করার ওপরও জোর দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। দলীয় কর্মীদের জনসংযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সম্পর্কে আরও বেশি মানুষকে অবহিত করার দায়িত্ব দেওয়া হবে।
কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদী সরকারের ১২ বছরের মেয়াদের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মৌর্য পাকা বাড়ি, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, উজ্জ্বলা প্রকল্প, ‘হর ঘর নল সে জল’ কর্মসূচির মাধ্যমে পানীয় জলের সংযোগ, সরাসরি সুবিধা হস্তান্তর এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, এসব উদ্যোগ দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের জীবনে পরিবর্তন এনেছে।
মৌর্য পূর্ববর্তী সরকারগুলির কাজের সঙ্গে বর্তমান সরকারের কাজের তুলনাও করেন। তাঁর দাবি, গত ১২ বছরে নেওয়া বেশ কিছু উদ্যোগ আগের সরকারগুলির দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পরও বাস্তবায়িত হয়নি।
ভারত অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে দেশের উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
অমিত শাহের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও পরামর্শের প্রশংসা করে মৌর্য বলেন, তাঁর নির্দেশনা দলীয় সংগঠন এবং সরকারকে ভবিষ্যতের পথ নির্ধারণে সাহায্য করবে। ২০২৭ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে দল ও সরকারের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা এবং রাজ্যজুড়ে জনসংযোগ কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথাও জানান তিনি।



















