লখনউ, ২৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): সাংগঠনিক রদবদলের মধ্যে নিজের ভাইপো ইশান আনন্দকে বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি)-র জাতীয় কনভেনর হিসেবে নিয়োগ করলেন দলের প্রধান মায়াবতী। বুধবার দলের জাতীয় বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি আসন্ন বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনের প্রস্তুতি জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মায়াবতী জানিয়েছেন, নির্বাচন সরাসরি দ্বিমুখী, ত্রিমুখী অথবা চতুর্মুখী লড়াইয়ে পরিণত হলেও উত্তরপ্রদেশে বিএসপির লক্ষ্য থেকে সরে গেলে চলবে না। তিনি দলের কর্মীদের বুথস্তর পর্যন্ত সংগঠনকে সক্রিয় করার এবং শক্তিশালী প্রার্থী বাছাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন।
উত্তরপ্রদেশে দল একাই নির্বাচনে লড়ার প্রস্তুতি নেবে বলেও জানিয়েছেন বিএসপি প্রধান। তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক ক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে বাবাসাহেব ভীমরাও আম্বেদকরের আত্মসম্মান ও স্বাভিমানের নীতিকে সামনে রেখে দলকে এগিয়ে যেতে হবে।
পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ প্রসঙ্গে মায়াবতী বলেন, বিএসপি বরাবরই পরিবারতন্ত্রের রাজনীতির থেকে দূরে থেকেছে। তাঁর বক্তব্য, আত্মীয়রা সংগঠনে কাজ করতে পারেন, তবে পারিবারিক স্বার্থের ভিত্তিতে তাঁদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়। এই মন্তব্য এমন সময় এল, যখন তাঁর দুই ভাইপো আকাশ আনন্দ ও ইশান আনন্দকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে দলের মধ্যে একাধিক সাংগঠনিক পরিবর্তন হয়েছে।
মায়াবতী আরও বলেন, দলীয় কর্মীদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে সংগঠন শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। তিনি বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে দাবি করেন, দেশের সাধারণ মানুষ দারিদ্র্য, বেকারত্ব, পশ্চাৎপদতা, অভিবাসন ও দুর্নীতির মতো সমস্যার মুখোমুখি।
জিএসটি, ইউপিআই এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিএসপি প্রধান। জিডিপি বৃদ্ধির সুফল দরিদ্র মানুষের কাছে পর্যাপ্তভাবে পৌঁছচ্ছে না বলে দাবি করে তিনি ‘উন্নত ভারত’-এর পাশাপাশি একটি ‘শক্তিশালী ভারত’-এর প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলিত ছাত্রছাত্রীদের আত্মহত্যার ঘটনাগুলির প্রসঙ্গ তুলে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর মতে, সংবিধানপ্রদত্ত ভোটাধিকারই বহুজন সমাজের অন্যতম বড় শক্তি।
এদিন ইশান আনন্দকে জাতীয় কনভেনর করার সিদ্ধান্তটি বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উঠে আসে। আইন বিষয়ে স্নাতক ইশান আনন্দ নতুন দায়িত্বের জন্য মায়াবতীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি আম্বেদকর ও কানশি রামের অসম্পূর্ণ কাজ এগিয়ে নিয়ে গিয়ে বহুজন সমাজকে স্বনির্ভর করার লক্ষ্যে কাজ করার কথা বলেন।



















