নয়াদিল্লি, ২৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): নির্বাচন কমিশন অব ইন্ডিয়া (ইসিআই)-এর অভ্যন্তরে মতপার্থক্য নিয়ে একটি সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা পি. চিদম্বরম বুধবার দাবি করেছেন, গত কয়েক বছরে নির্বাচন কমিশনের নেওয়া সমস্ত সিদ্ধান্ত সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হোক। একই সঙ্গে দেশজুড়ে চলা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) প্রক্রিয়া অবিলম্বে স্থগিত করারও দাবি জানান তিনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ১০ মাসের মধ্যে অন্তত ১৪ বার দুই নির্বাচন কমিশনার কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পদক্ষেপ নিয়ে নথিভুক্ত আপত্তি জানিয়েছিলেন। প্রতিবেদনে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং কমিশনের কিছু সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিশনারদের অবহিত না করার মতো বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে।
চিদম্বরম বলেন, প্রতিবেদনটি সঠিক হলে তা নির্বাচন কমিশনের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তিনি সিদ্ধান্ত এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার মধ্যে পার্থক্যের কথা তুলে ধরে বলেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ হলে সেই সিদ্ধান্তও ত্রুটিপূর্ণ হতে পারে।
কংগ্রেস নেতা দাবি করেন, বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছে। তাঁর বক্তব্য, যদি দুই নির্বাচন কমিশনার কোনও বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করে থাকেন, তাহলে কীভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের মতামতই কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে উঠল, তা পর্যালোচনা করা দরকার। এই প্রেক্ষাপটে তিনি সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কমিশনের সমস্ত সিদ্ধান্ত সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা এবং এসআইআর প্রক্রিয়া দেশজুড়ে অবিলম্বে স্থগিত করার দাবি জানান।
তবে নির্বাচন কমিশন সূত্রে এই প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য সামনে এসেছে। কমিশন সূত্রের দাবি, নির্বাচন কমিশনাররা কোনও বিষয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত মতামত বা পর্যবেক্ষণ জানাতে পারেন, কিন্তু কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে। এসআইআর-সহ কমিশনের সব সিদ্ধান্তে তিন নির্বাচন কমিশনারেরই অনুমোদন ছিল বলে জানানো হয়েছে।
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে অবশ্য নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশির বিভিন্ন বিষয়ে নথিভুক্ত আপত্তির কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে, কমিশনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সূত্রগুলি দাবি করেছে, সেগুলি আনুষ্ঠানিক ‘ডিসেন্ট’ নয়, বরং কমিশনের বিবেচনার জন্য দেওয়া পর্যবেক্ষণ ছিল।
এসআইআর নিয়ে এই বিতর্কের মধ্যেই নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট করেছে যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তগুলি সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।



















