শিলং, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও নির্বাসনের অপেক্ষায় হেফাজতে থাকা বিদেশি নাগরিকদের জন্য শিলংয়ের লাইটুমখরাহ এলাকায় এমবিওএসই হস্টেলকে অস্থায়ী ডিটেনশন ও হোল্ডিং সেন্টার হিসেবে নির্ধারণ করেছে মেঘালয় সরকার। মঙ্গলবার সরকারি আধিকারিকরা এই তথ্য জানিয়েছেন।
১৭ সেপ্টেম্বর মেঘালয়ের হোম (পলিটিক্যাল) দফতর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে। এর আগে বিদেশি নাগরিকদের রাখার জন্য নংস্টইনে একটি ভবন ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিল রাজ্য সরকার। তবে মেঘালয় হাইকোর্ট সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।
রাজ্যের জেলে দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি নাগরিকদের আটকে রাখার বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার শুনানি চলছে। প্রধান বিচারপতি রেবতী মোহিতে দেরে এবং বিচারপতি ডব্লিউ ডেংডোহের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করছে।
শুনানিতে আদালত রাজ্য সরকারকে ৩০ জন বিদেশি নাগরিককে নতুন নির্ধারিত কেন্দ্রে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা কার্যত সম্পূর্ণ হওয়ায় ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিদেশি নাগরিকদের এমবিওএসই হস্টেলের অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করতে হবে।
আদালতের নির্দেশের পর কারা ও সংশোধন পরিষেবার আইজি সব জেলার জেল কর্তৃপক্ষকে কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ করা কিন্তু নির্বাসনের অপেক্ষায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের শিলংয়ের ওই কেন্দ্রে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছেন।
আদালতে জমা দেওয়া স্ট্যাটাস রিপোর্ট অনুযায়ী, এমবিওএসই হস্টেলটি গ্রাউন্ড প্লাস দুই তলা ভবন। সেখানে ছয়টি ডরমিটরি রয়েছে এবং মোট ৬০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কেন্দ্রে প্রশাসনিক ও নিরাপত্তার কাজে ২৬ জন কর্মী, আটজন নিরাপত্তাকর্মী এবং প্রবেশপথ ও ওয়াচটাওয়ারে একটি প্লাটুন মোতায়েনের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিদেশি নাগরিকদের চিকিৎসার জন্য একজন চিকিৎসক এবং তিনজন সহায়ক চিকিৎসাকর্মীর ব্যবস্থাও করা হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রে ২৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অফিস পরিকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে।
২১ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়, চারটি মামলায় ইতিমধ্যেই নির্বাসনের নির্দেশ জারি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ করছে।
এদিকে, পাঁচজন বিদেশি নাগরিকের বিষয়েও শুনানিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়, যাঁরা অভিযোগ অনুযায়ী পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে হেফাজতে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে মিয়ানমারের দু’জন, নাইজেরিয়ার দু’জন এবং বাংলাদেশের একজন নাগরিক রয়েছেন।
কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যাঁরা অতিরিক্ত সময় হেফাজতে ছিলেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে কি না, সে বিষয়ে রাজ্য সরকার এবং ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসকে (এফআরআরও) তথ্য আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।
আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিন বিদেশি নাগরিকদের স্থানান্তর এবং নির্বাসন প্রক্রিয়ার অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে পারে আদালত।
—আইএএনএস



















