গুয়াহাটি, ২২ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ২০৩০ সালের মধ্যে অসমে ৬,০০০ মেগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার। পরিষ্কার শক্তিকে অসমের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক বৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।
সোমবার সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অসমের “পরবর্তী উন্নয়নের গল্পের” কেন্দ্রে থাকবে সবুজ শক্তি। পুনর্নবীকরণযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি রাজ্যের শক্তি নিরাপত্তা আরও মজবুত করার দিকে সরকার জোর দিচ্ছে।
হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, “সবুজ শক্তি অসমের পরবর্তী উন্নয়নের গল্পের কেন্দ্রে থাকবে। ২০৩০ সালের মধ্যে ৬,০০০ মেগাওয়াট পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে আমরা আরও পরিচ্ছন্ন এবং শক্তি-নিরাপদ অসমের ভিত্তি তৈরি করছি।”
শিল্পের সম্প্রসারণ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং নগরায়ণের ফলে রাজ্যে বিদ্যুতের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির অংশ বাড়লে বিদ্যুতের উৎসে বৈচিত্র্য আসবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রচলিত শক্তির উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ক্ষেত্রে অসমের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় জমির প্রাপ্যতা এবং অনুকূল জলবায়ুর কারণে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে। বৃহত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পরিচ্ছন্ন শক্তি প্রকল্পে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর উপরও জোর দিচ্ছে রাজ্য সরকার।
দেশজুড়ে অ-জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর যে বৃহত্তর উদ্যোগ চলছে, অসমের এই পরিকল্পনাও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ার পাশাপাশি পরিচ্ছন্ন শক্তির পরিকাঠামো, উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে ২০৩০ সালের মধ্যে ৬,০০০ মেগাওয়াটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, সঞ্চালন পরিকাঠামো, জমির প্রাপ্যতা এবং গ্রিডের সঙ্গে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির সমন্বয়—সব ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় স্পষ্ট, অসমের অর্থনৈতিক ও পরিকাঠামোগত উন্নয়ন পরিকল্পনায় পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তিকে পরিবেশগত অগ্রাধিকারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ক্ষেত্র হিসেবেও দেখা হচ্ছে। নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে বাস্তবায়িত করতে আগামী বছরগুলিতে সরকারি সংস্থা, বিদ্যুৎ সংস্থা এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন হবে।
—আইএএনএস



















