পাটনা, ২১ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): চলতি সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ হওয়ার পরেই বিহারে পঞ্চায়েত রাজ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে সোমবার জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যজুড়ে পঞ্চায়েতের প্রশাসনিক ও নির্বাচনী সীমানা নতুন করে নির্ধারণের কাজ চলছে এবং তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন সংক্রান্ত কোনও প্রক্রিয়া শুরু হবে না।
পাটনায় আয়োজিত ‘গ্রাম সংসদ বিহার চ্যাপ্টার’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে পঞ্চায়েতগুলির সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে। জনসংখ্যার ৭,৫০০-র মানদণ্ডকে ভিত্তি করে পঞ্চায়েতগুলির সীমানা পুনর্গঠন করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণায় মুখিয়া, সরপঞ্চ, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য এবং জেলা পরিষদ সদস্য পদে নির্বাচনে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ সীমানা ও জনসংখ্যার বণ্টনে পরিবর্তন হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার নির্বাচনী সমীকরণও বদলাতে পারে।
চৌধুরী বলেন, বিহারের বেশ কয়েকটি পঞ্চায়েতের ভৌগোলিক আয়তন অনেক বড় এবং জনসংখ্যাও যথেষ্ট বেশি। ফলে প্রশাসনিক পুনর্গঠন প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। নিজের গ্রামের উদাহরণ দিয়ে তিনি জানান, তাঁর গ্রামের জনসংখ্যা প্রায় ২০ হাজার হলেও বর্তমানে আরও তিনটি গ্রামের সঙ্গে মিলিয়ে একটি পঞ্চায়েত গঠন করা হয়েছে।
তিনি জানান, পঞ্চায়েতের সীমানা পুনর্বিন্যাসের জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করা হয়েছিল এবং সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। এর ফলে বর্তমান পঞ্চায়েতগুলির গঠন ও সীমানায় পরিবর্তন আসতে পারে।
কিছু গ্রাম এক পঞ্চায়েত থেকে অন্য পঞ্চায়েতের আওতায় যেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন পঞ্চায়েত তৈরি অথবা পুরনো পঞ্চায়েতগুলির পুনর্গঠনও হতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মুখিয়া, সরপঞ্চ, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদ নির্বাচনের নির্বাচনী সমীকরণে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে তাই চূড়ান্ত প্রশাসনিক সীমানা নির্ধারিত হওয়ার পরেই নির্বাচনী প্রস্তুতির বিস্তারিত পরিকল্পনা করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সীমানা পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ হওয়ার পরই নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।
অনুষ্ঠানে চৌধুরী তৃণমূল স্তরের প্রশাসনে নির্বাচিত পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাধারণত মানুষ প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা জেলাশাসককে প্রশাসনিক ব্যবস্থার সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে মনে করলেও তৃণমূল স্তরে মুখিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মুখিয়ার উপর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকে এবং মুখিয়া পদে নির্বাচন লড়াই করা সহজ নয়। তাঁর মতে, নির্বাচন যত তৃণমূল স্তরের দিকে যায়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তত বেশি হয়। ওয়ার্ড সদস্য ও মুখিয়া নির্বাচনে স্থানীয় সম্পর্ক এবং সামাজিক সমীকরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তৃণমূল স্তরের গণতন্ত্রের প্রসঙ্গ তুলে চৌধুরী বলেন, ভোটাররা অনেক সময় নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর নাম গোপন রাখেন, এমনকি প্রতিবেশী বা পরিবারের সদস্যদের কাছেও তা প্রকাশ করেন না।
পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব এবং সরকারি সম্পদের বিষয়েও মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি চাইবেন কেন্দ্রীয় সরকার বিহারের প্রয়োজনীয় সমস্ত অর্থ দিক। তবে বাস্তবে তা সবসময় সম্ভব নয়।
একইভাবে জেলা পরিষদ ও পঞ্চায়েত স্তরের প্রতিনিধিদেরও সরকারি সম্পদের সীমাবদ্ধতা বুঝতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্য, মানুষ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেয় এবং শেষ পর্যন্ত কারা তাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও জনগণের হাতেই থাকে।
বিহারের পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থা নিয়ে চৌধুরী আরও দাবি করেন, বিহারে যে ধরনের সরপঞ্চের পদ রয়েছে, দেশের অন্য রাজ্যগুলিতে একই ধরনের পদ নেই এবং এটি বিহারের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
—আইএএনএস



















