আগরতলা, ২০ সেপ্টেম্বর: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি, বেকারদের কর্মসংস্থান এবং টেট উত্তীর্ণদের নিয়োগ-সহ একাধিক দাবিতে আগরতলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করল ‘আমরা বাঙালী’ দল। রবিবার আয়োজিত এই কর্মসূচিতে দলের রাজ্য সচিব গৌরাঙ্গ রুদ্র পাল, প্রচার সচিব দুলাল ঘোষ, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অশোক কুমার দাস-সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে দলের নেতারা অভিযোগ করেন, পেট্রোল-ডিজেলের পাশাপাশি প্রতিদিনই নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বাড়ছে। বিশেষ করে চালের দাম বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
তাঁদের আরও অভিযোগ, স্মার্ট সিটি প্রকল্পের নামে করের বোঝা বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষ সমস্যায় পড়েছেন। একদিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ কমছে, অন্যদিকে ছোট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় দোকানদারদের ব্যবসাও বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারি জমি ও পরিকাঠামো ব্যবহারের ক্ষেত্রেও স্থানীয় বেকারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়। শিক্ষাক্ষেত্র নিয়েও এদিন সরব হয় ‘আমরা বাঙালী’। দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বহু যুবক-যুবতী বিএড সম্পন্ন করে টেট উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাকরির অপেক্ষায় রয়েছেন। অথচ বিভিন্ন সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক-স্বল্পতার কারণে পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে এবং কোথাও কোথাও ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে আন্দোলনে নামতে হচ্ছে।
বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দিয়ে অন্যান্য ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড হওয়ায় বিদ্যালয়গুলিতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং পরিকাঠামোর উন্নয়নে সরকারকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে।
এদিনের কর্মসূচি থেকে রাজ্যের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরকারের সমালোচনাও করেন দলের নেতারা। বিশেষ করে এডিসি, ত্রিপাক্ষিক চুক্তি এবং বাঙালি সম্প্রদায়ের অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে সরকারের কাছে স্পষ্ট অবস্থান জানানোর দাবি তোলা হয়। তবে এসব বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষে রাজ্যবাসীর স্বার্থে সরকারের কাছে মোট পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়।
‘আমরা বাঙালী’র পাঁচ দফা দাবি— বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম টানতে হবে। বিভিন্ন সরকারি শূন্যপদে অবিলম্বে বেকারদের নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। দুর্গাপূজার আগে শহরের রাস্তাঘাট দ্রুত মেরামত করতে হবে। স্থানীয় বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগে জমি দিয়ে দোকানপাট তৈরির ব্যবস্থা করতে হবে। অবিলম্বে টেট উত্তীর্ণ বেকারদের নিয়োগ করতে হবে।



















