নয়াদিল্লি, ২০ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডিইউএসইউ) নির্বাচনে এবিভিপির সাফল্য নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অর্থবল ও ইভিএমের বড় আকারে অপব্যবহারের অভিযোগ তুললেন কংগ্রেস নেতা উদিত রাজ। একই সঙ্গে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণভাবে আত্মসমীক্ষার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার অনুষ্ঠিত ডিইউএসইউ নির্বাচনে আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) চারটি পদের মধ্যে তিনটিতে জয় পেয়েছে। কংগ্রেস-সমর্থিত এনএসইউআই কোনও পদেই জয়ী হতে পারেনি। ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে জয়ী হয়েছেন নির্দল প্রার্থী দীপাংশু শোকিন।
আইএএনএস-কে উদিত রাজ বলেন, “বড় আকারে অর্থবল এবং ইভিএমের অপব্যবহার হয়েছে। এর পাশাপাশি আমাদেরও আত্মসমীক্ষা করতে হবে।”
বিজেপি ও আরএসএস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একদিকে জেন-জেডের মধ্যে তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে কীভাবে তাঁরা নির্বাচনে জয়ী হচ্ছেন, সেটিও পর্যালোচনা করা দরকার। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন পরিচালনা ও সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই জয় আসে। ডিইউএসইউ নির্বাচনে মূল লড়াই আরএসএস ও বিজেপির সংগঠনই পরিচালনা করে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, তাদের সাংগঠনিক শক্তি অনেক বেশি এবং তা আরও সুসংগঠিত।
জন্তর মন্তরের প্রতিবাদ কর্মসূচির কৃতিত্ব সিজেপির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা নেওয়ায় ডিইউএসইউ নির্বাচনে এনএসইউআইয়ের পরাজয় হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নেরও জবাব দেন উদিত রাজ। তিনি বলেন, যদি তাঁরা জনসাধারণের ক্ষোভের কৃতিত্ব নিয়ে থাকেন, তাহলে তাঁদের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হওয়া উচিত ছিল। তাঁর প্রশ্ন, তাঁরা নির্বাচনে লড়লেন না কেন?
জেন-জেড আন্দোলনের প্রসঙ্গে উদিত রাজ বলেন, ওই সময় সাধারণ পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ নিজেদের ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে সামনে এসেছিলেন। তাঁর দাবি, বিভিন্ন দল ও সংগঠনের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই ওই আন্দোলন তৈরি হয়েছিল এবং তা শুধুমাত্র সিজেপির নেতৃত্বাধীন ছিল না।
ডিইউএসইউ নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদবও। তিনি বলেন, এনএসইউআইয়ের কোনও ‘ক্লিন সুইপ’ হয়নি এবং কংগ্রেসকে কেউ শেষ করে দিতে পারবে না। কংগ্রেসের আদর্শ বিশ্বকল্যাণ ও মানবতার সঙ্গে যুক্ত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কাজকর্মের সমালোচনা করে বলেন, “কংগ্রেসকে কংগ্রেসিরাই শেষ করে।”
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রলোভন, অর্থবল, চাপ এবং কারচুপির মতো বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগও তোলেন পাপ্পু যাদব। একই সঙ্গে তিনি কংগ্রেসের ভুলত্রুটির কথাও স্বীকার করেন। রাহুল গান্ধীর সংগ্রামকে সামনে রেখে কাজ করার পরিবর্তে ব্যক্তিগত স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
—আইএএনএস



















