নয়াদিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডুসু) নির্বাচনে চারটি পদের মধ্যে তিনটিতে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) জয়ী হওয়ার পর সংগঠনের প্রার্থীদের অভিনন্দন জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপির একাধিক নেতা। এই জয়কে কেন্দ্র করে বিজেপি নেতারা দাবি করেছেন, দেশের তরুণ প্রজন্ম এবং জেন জি বিরোধীদের ‘মিথ্যা’ মেনে নেবে না।
এবিভিপির জয়কে অভিনন্দন জানিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেন, এই ফলাফল ‘দেশ প্রথম’ নীতির প্রতি যুবসমাজের অটুট আস্থার প্রতীক। সমাজমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি এবিভিপির কর্মীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ছাত্রস্বার্থ, জাতীয় সেবা এবং দেশ গঠনের কাজে সংগঠনটি একই নিষ্ঠা ও প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করে যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু সাংবাদিকদের বলেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখা হয়। তাঁর দাবি, এবিভিপির এই জয় দেখিয়ে দিয়েছে যে কংগ্রেস ও বিরোধীরা যাকে ‘ছাত্রদের আওয়াজ’ বলে প্রচার করছে, তা আসলে ‘মিথ্যার প্রতিধ্বনি’।
রিজিজু আরও বলেন, ডুসুতে কংগ্রেস শূন্যে নেমে এসেছে এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের মতামত স্পষ্টভাবে প্রকাশ করেছেন। তাঁর কথায়, দেশের যুবসমাজ ও জেন জি বিরোধীদের ‘মিথ্যা’ মেনে নেবে না। তিনি এবিভিপির এই জয়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও এবিভিপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই ফলাফল ‘দেশ প্রথম’-এর চেতনায় ইতিবাচক ও গঠনমূলক ছাত্র রাজনীতির প্রতি যুবসমাজের আস্থার প্রতিফলন। ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যে অবদান রাখার ক্ষেত্রেও ছাত্রসমাজের আগ্রহ এই ফলাফলে প্রতিফলিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দিল্লি বিজেপির সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা আইএএনএসকে বলেন, এটি ‘জাতীয়তাবাদী মানসিকতার জয়’। তাঁর দাবি, দেশের কল্যাণের কথা বলা প্রার্থীদের প্রতি ছাত্রছাত্রীরা আস্থা রেখেছেন এবং ‘টুকড়ে টুকড়ে গ্যাং’-এর রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
বিজেপি নেতা বীরেন্দ্র সচদেব বলেন, ডুসু নির্বাচনে তিনটি আসনে এবিভিপির জয় দেখিয়ে দিয়েছে যে আজকের যুবসমাজ বিভ্রান্ত নয় এবং দেশের নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হাতে সুরক্ষিত—এমন বিশ্বাস তাদের মধ্যে রয়েছে।
বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি এবিভিপির জয়কে ‘ঝুঠ কি গুঞ্জ’-এর পরাজয় হিসেবে অভিহিত করেন। সমাজমাধ্যমে তিনি দাবি করেন, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা দেশপ্রেম, উন্নয়ন এবং ২০৪৭ সালের ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্যের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। একইসঙ্গে রাহুল গান্ধীর ‘পিআর প্রচার’ও ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


















