আগরতলা, ১৯ সেপ্টেম্বর: আদিবাসী ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করতে ত্রিপুরায় নতুন করে আরও ৬টি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যে বিদ্যালয়গুলি চালু হতে পারে বলে জানিয়েছেন জনজাতি কল্যাণ দফতরের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক।
বর্তমানে রাজ্যে ১২টি একলব্য মডেল আবাসিক বিদ্যালয় চালু রয়েছে। নতুন ৬টি বিদ্যালয় চালু হলে ত্রিপুরায় কার্যকর ইএমআরএস-এর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াবে ১৮টিতে। এই বিদ্যালয়গুলিতে জনজাতি সম্প্রদায়ের ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক শিক্ষার সুযোগ দেওয়া হয়।
জনজাতি কল্যাণ দফতরের অধিকর্তা শুভাশিস দাস জানান, নতুন ৬টি বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। কয়েকটি ছোটখাটো কাজ বাকি রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের ব্যবস্থা চূড়ান্ত হলেই বিদ্যালয়গুলিতে পঠনপাঠন শুরু করা সম্ভব হবে।
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের অধীন ন্যাশনাল এডুকেশন সোসাইটি ফর ট্রাইবাল স্টুডেন্টস ইতিমধ্যেই নতুন বিদ্যালয়গুলিতে সাময়িকভাবে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। বর্তমানে চালু থাকা ইএমআরএস-গুলি থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী কর্মীদের নতুন বিদ্যালয়ে সাময়িকভাবে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে বিদ্যালয়গুলির পূর্ণাঙ্গ কর্মী প্রয়োজন মেটাতে নতুন করে নিয়োগ করা হবে। শুভাশিস দাস জানান, নতুন ইএমআরএস-গুলিতে ভর্তির জন্য প্রবেশিকা পরীক্ষাও ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে, ভবিষ্যতে ইএমআরএস ক্যাম্পাস নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় গণপূর্ত দফতর-এর ওপর নির্ভর না করে অন্যান্য নির্মাণ সংস্থাকেও কাজে লাগানোর অনুমোদন পেয়েছে রাজ্য সরকার। এর ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও বেশি নমনীয়তা আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
জনজাতি কল্যাণ দফতরের অধিকর্তা জানান, একটি ইএমআরএস ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য সিপিডাব্লিউডি-এর প্রাক্কলিত ব্যয় ৭০ কোটি টাকারও বেশি। অথচ এনইএসটিএস প্রতি বিদ্যালয়ের জন্য ৫০ কোটি টাকা নির্মাণ বাজেট অনুমোদন করেছে। অন্যদিকে, ত্রিপুরা হাউজিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন বোর্ড-এর হিসাব অনুযায়ী, একই ধরনের একটি ক্যাম্পাস প্রায় ৫৪ কোটি টাকার মধ্যে নির্মাণ করা সম্ভব।
ইতিমধ্যে খোয়াই জেলার মুঙ্গিয়াকামি এবং উত্তর ত্রিপুরা জেলার দাসদা এলাকায় আরও দুটি ইএমআরএস ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য এনইএসটিএস মোট ১০০ কোটি টাকা অনুমোদন করেছে। প্রতিটি বিদ্যালয়ের জন্য ৫০ কোটি টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে।
শুভাশিস দাস জানান, এনইএসটিএস-এর অনুমোদিত অর্থের তুলনায় প্রকৃত নির্মাণ ব্যয় বেশি হলে অতিরিক্ত খরচ রাজ্য সরকার বহন করবে।
রাজ্যে আরও ৬টি ইএমআরএস চালু হলে প্রত্যন্ত এলাকার জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের আবাসিক শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে দূরবর্তী অঞ্চলের ছাত্রছাত্রীদের মানসম্মত শিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি আবাসিক সুবিধাও আরও সহজলভ্য হবে।



















