নয়াদিল্লি, ১৯ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ভারতের স্টার্টআপ সাফল্যের কাহিনি আর শুধুমাত্র বড় শহরকেন্দ্রিক নয়। দেশের ছোট শহর ও মফস্বলের যুবকরাও নতুন অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বলে শনিবার মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
২০তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারেরও বেশি নবনিযুক্ত যুবকের হাতে নিয়োগপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের যুবসমাজের সম্ভাবনার অন্যতম উদাহরণ দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম। বর্তমানে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং স্বীকৃত স্টার্টআপগুলির প্রায় অর্ধেকই টিয়ার-২ ও টিয়ার-৩ শহরে রয়েছে বলে তিনি জানান।
মোদি বলেন, এর মাধ্যমে স্পষ্ট হচ্ছে যে গ্রাম, মফস্বল ও ছোট শহরের যুবকরাও ভারতের নতুন অর্থনীতিতে ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ছোট শহরের তরুণরা নিজেদের ভাবনা ও উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে নতুন সংস্থা গড়ে তুলছেন এবং নিজেদের পাশাপাশি অন্য যুবকদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করছেন।
বেসরকারি ক্ষেত্রেও দ্রুত নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এই উদ্দেশ্যে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’ চালু করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি যুবক প্রথমবারের মতো কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। প্রথমবার চাকরিতে যোগদানকারী যুবকদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হবে। একইসঙ্গে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করা নিয়োগকর্তাদেরও প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
দেশজুড়ে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছে বলে জানান মোদি। তাঁর মতে, দেশের অর্থনীতি এগিয়ে গেলে, বিনিয়োগ বাড়লে, নতুন শিল্প গড়ে উঠলে এবং নতুন নতুন ক্ষেত্রের সম্প্রসারণ ঘটলেই যুবসমাজের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারত অগ্রগতি করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
নবনিযুক্ত সরকারি কর্মীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরা এখন সরকারি ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে চলেছেন। তাই নিজেদের যে সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে কিংবা তাঁদের বাবা-মাকে যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের যুবকদের যেন সেই একই সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করতে হবে।
দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের উদ্দেশে বলেন, এতদিন তাঁরা ধারাবাহিকভাবে নতুন কিছু শিখে এই পর্যায়ে পৌঁছেছেন। এখন তাঁদের সামনে আজীবন শেখার নতুন যাত্রা শুরু হচ্ছে। নিজেদের দক্ষতা নিয়মিত উন্নত করার পাশাপাশি নতুন প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
এই লক্ষ্যেই ‘মিশন কর্মযোগী’ সহায়তা করবে বলে জানান মোদি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যে ১.৭০ কোটিরও বেশি সরকারি কর্মী ‘আইগট কর্মযোগী’ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন। নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য বিশেষভাবে ‘কর্মযোগী প্রারম্ভ’ কর্মসূচিও প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মীরা নিজেদের যত বেশি উন্নত করবেন এবং দক্ষতা বাড়াবেন, দেশের নাগরিকদের আরও ভালোভাবে পরিষেবা দেওয়ার সক্ষমতাও তত বাড়বে।
—আইএএনএস



















