নয়াদিল্লি, ১৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): ব্রিকসের মঞ্চে গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির কণ্ঠস্বর গুরুত্ব পাচ্ছে এবং তাদের অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা হচ্ছে বলেই এই জোটের প্রতি তাদের আস্থা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, ব্রিকসের শক্তি নিহিত রয়েছে এর বৈচিত্র্য ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যে।
রবিবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের সমাপ্তি অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ভারতের সভ্যতাগত ঐতিহ্যে প্রকৃতিকে সবসময় গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে দেখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় সভ্যতায় প্রকৃতিকে মায়ের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ভারতীয়দের বিশ্বাস, উন্নয়ন ও পরিবেশ একে অপরের বিকল্প নয়, বরং পরস্পরের পরিপূরক।
ব্রিকসের আওতায় নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মোদি বলেন, মানব উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি জানান, স্মার্ট গ্রিড ও শক্তি সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে ব্রিকস ডিজিটাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর ফলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য, দক্ষ এবং সহজলভ্য করে তোলার ক্ষেত্রে সাহায্য মিলবে।
প্রধানমন্ত্রী ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। বিশেষ করে কৃষি, জলবায়ুর সঙ্গে অভিযোজন এবং পরিবেশগত স্থায়িত্বের ক্ষেত্রে এই সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, কৃষিবিদ্যা ও পুনর্জীবনশীল কৃষি নিয়ে গড়ে ওঠা উৎকর্ষ কেন্দ্রগুলি ঐতিহ্যবাহী জ্ঞানকে আধুনিক বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত করবে। একইসঙ্গে সম্প্রদায়ভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজনের জন্য তৈরি নীতিগুলি জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় আদিবাসী ও স্থানীয় জ্ঞানকে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির কাছে ব্রিকসের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এমন একটি মঞ্চ পাওয়ার কারণে এই দেশগুলির আস্থা বেড়েছে, যেখানে তাদের উদ্বেগ ও অভিজ্ঞতাকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
মোদি বলেন, তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে তিনি বলতে পারেন যে ব্রিকসের প্রতি গ্লোবাল সাউথের দেশগুলির আস্থা বেড়েছে, কারণ ব্রিকসে তাদের কণ্ঠস্বর শোনা হয়, অভিজ্ঞতাকে সম্মান করা হয় এবং তাদের জন্য নয়, বরং তাদের সঙ্গে নিয়েই সমাধান তৈরি করা হয়। বৈচিত্র্য ও সহযোগিতাই ব্রিকসের মূল শক্তি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশগুলির পরিস্থিতি ও বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য থাকলেও বৃহত্তর বৈশ্বিক অগ্রগতির জন্য সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন বাস্তবতার ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে থাকা দেশগুলি সহযোগিতার মাধ্যমে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে এবং মানবতার বৃহত্তর কল্যাণে অবদান রাখতে পারে।
সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈচিত্র্যই যেন ব্রিকসের পরিচয় হয়, সহযোগিতা হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণা এবং অগ্রগতি যেন সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে কাজে লাগে।
—আইএএনএস



















