নয়াদিল্লি, ১৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): আসন্ন উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দলের আসল নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়াই আরও জোরালো হয়েছে। এরই মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সদস্য হিসেবে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়েও রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। তবে এখনও নির্বাচন কমিশন চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত নেয়নি, কোন গোষ্ঠীকে ‘আসল’ তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে।
শনিবার নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী, যাকে তাঁর কালীঘাটের বাড়ির ঠিকানার সূত্রে অনেক সময় ‘কালীঘাট তৃণমূল’ বলা হচ্ছে, এবং প্রাক্তন বাম নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে নিজেদের দাবির পক্ষে বক্তব্য পেশ করার সময় দিয়েছে। আগামী মাসে পশ্চিমবঙ্গের দুটি বিধানসভা আসনে উপনির্বাচনের আগে এই স্বীকৃতি পাওয়াই দুই গোষ্ঠীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর ওই দুই আসনে উপনির্বাচন হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন বুধবার, অর্থাৎ হাতে আর মাত্র চার দিন রয়েছে।
রেজিনগর বিধানসভা আসনটি খালি হয়েছে বিতর্কিতভাবে বাবরি মসজিদের প্রতিকৃতি নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত হুমায়ুন কবীর পদত্যাগ করে নওদা আসন ধরে রাখার পর। অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম আসনটি খালি করেছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ভবানীপুর থেকে জয়ী হওয়ার পর নন্দীগ্রাম আসন ছেড়ে দেন। ভবানীপুরেই তিনি তাঁর পূর্বসূরি ও একসময়ের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে টানা তৃতীয়বার দায়িত্বে থাকতে তাঁকে ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধানসভায় ফিরতে হয়েছিল।
এদিকে হুমায়ুন কবীর ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রেজিনগর থেকে প্রার্থী হওয়ার ‘আমন্ত্রণ’ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই আসন থেকে মমতার জয় নিশ্চিত করতে তিনি সক্ষম। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসে থাকা কবীরকে অযোধ্যার বাবরি মসজিদের আদলে রেজিনগরে একটি মসজিদের প্রতিকৃতি নির্মাণের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের পর দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে তিনি আম জনতা উন্নয়ন পার্টি গঠন করেন এবং একইসঙ্গে দুটি আসন থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের চার মাস আগে, গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি ওই প্রতিকৃতির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।
অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সদস্যরা জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁরা সেখানে কোনও প্রার্থী দেবেন না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই অবস্থানকে সমর্থন করেছেন। তবে তাঁর বক্তব্যে কটাক্ষও ছিল—জয়ী হলে মমতা উপনির্বাচনের মাধ্যমেই বিধানসভায় প্রবেশ করতে পারবেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তাঁর শিবির এখনও আসন্ন উপনির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি। তবে ঋতব্রত গোষ্ঠী নন্দীগ্রামে প্রার্থী না দিলে সেখানে ক্ষমতাসীন বিজেপি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে। কারণ, ঋতব্রত গোষ্ঠী মমতা-বিরোধী ভোটের একটি অংশ নিজেদের দিকে টেনে নিতে পারে। বিজেপিকে সমর্থন না করা ভোটারদের কাছেও মমতার বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার একটি বিকল্প তৈরি হতে পারে।
এদিকে চলতি বছরের নির্বাচনে পরাজয়, একাধিক নেতা, সাংসদ ও বিধায়কের দলবদল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি বা আইনি পদক্ষেপের জেরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন শিবির কিছুটা চাপে রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।
—আইএএনএস



















