গুয়াহাটি, ১৩ সেপ্টেম্বর (আইএএনএস): দেশে আরও ১৩,১৮৬টি এমবিবিএস আসন অনুমোদনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি)-এর এই সিদ্ধান্তকে চিকিৎসাশিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী এই সম্প্রসারণের প্রশংসা করেন। চিকিৎসাশিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী পড়ুয়াদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি দেশে প্রশিক্ষিত চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এনএমসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশে এমবিবিএস আসনের সংখ্যা বেড়ে ১ লক্ষ ৪০ হাজার ২১৪ হয়েছে। ইনস্টিটিউটস অব ন্যাশনাল ইম্পর্ট্যান্সের আসন বাদ দিয়ে দেশের ৮৩৬টি মেডিক্যাল কলেজে এই স্নাতক স্তরের আসন রয়েছে।
দেশে এমবিবিএস আসনের এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এমন সময়ে হয়েছে, যখন ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি-কাম-এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট-ইউজি)-এ অংশ নেওয়া পড়ুয়াদের মধ্যে মেডিক্যাল আসনের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে অতিরিক্ত আসন অনুমোদন করা হয়েছে। কর্ণাটক, তামিলনাড়ু ও বিহারের মতো রাজ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন বৃদ্ধি পেয়েছে।
অসম তথা উত্তর-পূর্ব ভারতের ক্ষেত্রে এই সম্প্রসারণ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অসমে মেডিক্যাল কলেজ ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সম্প্রসারণ ঘটেছে। একইসঙ্গে রাজ্য সরকার উন্নত ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্য পরিষেবার সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পড়ুয়াদের জন্য চিকিৎসাশিক্ষার আরও সুযোগ তৈরির ওপর জোর দিয়ে আসছে।
দেশে এমবিবিএস আসন বৃদ্ধির ফলে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে আরও দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চিকিৎসাশিক্ষার পরিকাঠামো সম্প্রসারণ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরে আসন বৃদ্ধি এবং নতুন মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের ওপর সাম্প্রতিক বছরগুলিতে কেন্দ্র ও এনএমসি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এর আগেও দেশে কয়েক হাজার নতুন এমবিবিএস আসন যুক্ত হয়েছিল। সর্বশেষ ১৩,১৮৬টি আসন অনুমোদনের ফলে দেশের চিকিৎসাশিক্ষার সামগ্রিক সক্ষমতা আরও এক ধাপ বৃদ্ধি পেল। এর ফলে নিট-ইউজি পরীক্ষার্থীদের জন্য হাজার হাজার অতিরিক্ত সুযোগ তৈরি হবে এবং দেশের চিকিৎসাশিক্ষা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অসমের মুখ্যমন্ত্রীর এই প্রতিক্রিয়া এমন সময়ে এল, যখন রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও চিকিৎসাশিক্ষার সম্প্রসারণকে উন্নয়ন কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
—আইএএনএস



















